পড়ুয়া ও শিক্ষকের হাতাহাতিতে উত্তাল জিকেসিআইইটি

পড়ুয়া ও শিক্ষকের হাতাহাতিতে উত্তাল জিকেসিআইইটি

পুনরায় ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠল গণিখান চৌধুরি ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাস। এবার তা পরিণত হল হাতাহাতিতে। শুক্রবার আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের রীতিমতো হাতাহাতি হয়। পড়ুয়াদের দাবি এই ঘটনায় দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ঘটনায় জন্য আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের দায়ী করেছে। এই হাতাহাতিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা বড়োসড়ো প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।


বৈধ শংসাপত্র ও বিটেক-এ ল্যাটারাল এন্ট্রির দাবি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জিকেসিআইটি ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন ডিপ্লোমা কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা। ইতিমধ্যে তাঁরা কিছুদিন অনশন আন্দোলনও করেছিলেন। সাংসদ মৌসম নূর কয়েকদিন আগে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে পড়ুয়াদের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, লাগাতার আন্দোলনে অসুস্থ হয়ে পড়া এক ছাত্রীকে নিজের গাড়িতে নিয়ে এসে তিনি তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তিও করিয়েছিলেন। যদিও তাঁর আশ্বাস সত্ত্বেও ছাত্র আন্দোলন বন্ধ হয় নি। এদিন দুপুরে তা রীতিমত হাতাহাতির রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সুপ্রিয়া সরকার, নাসিম নওয়াজদের অভিযোগ, সমস্যা নিয়ে এদিন তাঁরা প্রতিষ্ঠানের ডিন (অ্যাকাডেমিক) নীলকান্ত বর্মণের সঙ্গে বৈঠকে কথাবার্তা চলাকালীন নীলকান্তবাবু হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি পড়ুয়াদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গিয়ে চিৎকার করে অন্যান্য শিক্ষক সহ নিরাপত্তা কর্মীদের ডেকে আনেন বলে অভিযোগ। নীলকান্তবাবুর চিৎকারে অনেক শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী সহ নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে আসে। নীলকান্তবাবুর হুকুমে তারা সবাই পড়ুয়াদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ তারা মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেয় এবং লোহার রড দিয়ে ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করে। শুধু তাই নয় তারা চিৎকার করে ছাত্রদের মেরে ক্যাম্পাসের ১০১ একর জমির মধ্যে পুঁতে ফেলা ও ছাত্রীদের রেপ করে ঘরে বন্ধ করে রাখা হুমকি দেয়। প্রাণভয়ে পড়ুয়ারা তখন যে যেদিকে পারেন ছুটে পালান। ছাত্রছাত্রীরা নীলকান্তবাবু ও সিকিউরিটি ইন-চার্জ উত্তমকুমার ঘোষ সহ এদিনের ঘটনায় জড়িত সবার কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। এজন্য তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এদিনের ঘটনায় সুপ্রিয়া সরকার, নাসিম নওয়াজ ও সাক্ষী কুমারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের ডিন (অ্যাকাডেমিক) নীলকান্তবাবুর বক্তব্য, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ৫-৬ জনের সঙ্গে কথা বলতে রাজিও হন। কিন্তু তারা ১০-১২ জন তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ে বৈঠক চলাকালীন ঘরে তালা বন্ধ করার চেষ্টা করে। তিনি কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেই সময় ছাত্ররা তাঁকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর প্রতিষ্ঠানের অন্যান্যরা পরিস্থিতি সামাল দেয় বলে জানান নীলকান্তবাবু।

এদিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে স্থানীয় মালদা থানায় নীলকান্তবাবু সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভিযোগপত্র নিয়ে থানায় গিয়েছেন পড়ুয়ারা বলে সর্বশেষ খবর। সূত্রের খবর, অন্যদিকে জিকেসিআইইটি কর্তৃপক্ষও ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নীলকান্তবাবু জানিয়েছেন, তিনি গোটা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই।

ভিডিয়োঃ কৃতাঙ্ক

#DigitalDesk #Education #Video

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.