বিজ্ঞাপন

পথ দুর্ঘটনা কালিয়াচকে, পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ



কালিয়াচক চৌরঙ্গি মোড়ের কাছেই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে নাকাবন্দি চালাচ্ছিল পুলিশ৷ তখন ভোর সাড়ে ৫টা৷ পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিদিনই ওই জায়গায় কালিয়াচক থানার পুলিশ নাকাবন্দি করে জাতীয় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলিতে তল্লাশি চালায়৷ গতকাল রাত থেকে সেখানে নাকাবন্দি চালিয়ে গাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছিলেন ৫ জন পুলিশকর্মী৷ ভোরে সেখানে ফরাক্কাগামী একটি লরিকে আটকান পুলিশকর্মীরা৷ কিন্তু সেই লরিটি পুলিশকে এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে৷ সেই সময় সেখানে একটি মোটরবাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৩ জন৷ লরিটি পালানোর সময় মোটরবাইকটিকে ধাক্কা মারলে বাইক আরোহীরা মাটিতে পড়ে যান৷ উপস্থিত সকলে হইহই করে ওঠে৷ সবাই বাইক আরোহীদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে৷ ব্যস্ত হয়ে পড়েন পুলিশকর্মীরাও৷ দেখা যায়, সংঘর্ষে সেখানেই একজনের মৃত্যু হয়েছে৷ আহত দু’জনকে তড়িঘড়ি স্থানীয় সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়৷ এতকিছুর মধ্যে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক লরিটি৷

এই ঘটনার পরেই পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা৷ তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে নাকাবন্দি করে তল্লাশির নামে প্রতিদিনই তোলা আদায় করে পুলিশ৷ তাই পুলিশকে এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বেশিরভাগ গাড়ি৷ তাড়াহুড়োর জন্য এর আগেও সেখানে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ গোটা ঘটনা জানা রয়েছে জেলার পুলিশ কর্তাদেরও৷ কিন্তু পুলিশের তোলা আদায়ে রাশ টানা যায়নি৷ এই অভিযোগ তুলে ঘটনাস্থলে মৃত ব্যক্তির দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষজন৷ তাঁদের দাবি ছিল, পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থলে আসতে হবে৷ শুরু হয়ে যায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কালিয়াচক থানার পুলিশ৷ পুলিশকর্মীরা জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন৷ কিন্তু পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবরোধ চালিয়ে যেতে থাকেন স্থানীয়রা৷ এরপরেই পুলিশ ও গ্রামবাসীদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়৷ লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ৷ ক্ষিপ্ত জনতাও পুলিশকে আক্রমণ করে বসে৷ ভাঙচুর করা হয় একটি লরি ও পুলিশের একটি গাড়ি ৷ সড়কের ধারে নয়ানজুলিতে ফেলে দেওয়া হয় আরও দুটি পুলিশের গাড়ি৷ জনতার রোষ থেকে বাঁচতে পুলিশকর্মীরা যে যেদিকে পারেন ছুটতে শুরু করেন৷ দু’জন পুলিশকর্মী এই ঠান্ডাতেও নয়ানজুলিতে গলাজলে নেমে পড়েন৷ ততক্ষণে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী চলে আসে৷ এরপরেই জনতার উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ৷ ক্ষিপ্ত জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়৷ অবরোধমুক্ত হয় জাতীয় সড়ক৷


পুলিশ জানিয়েছে, এদিনের দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছেন নইমুদ্দিন শেখ (২৮)৷ তাঁর বাড়ি কালিয়াচক থানারই উত্তর দারিয়াপুর গ্রামের মোমিনপাড়ায়৷ আহত দু’জনকে প্রথমে স্থানীয় সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা আবদুল বারেক শেখকেও (২২) মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩৮ বছর বয়সী সামেদ শেখকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ বারেক ও সামেদের বাড়িও উত্তর দারিয়াপুর গ্রামের মোমিনপাড়ায়৷ এদিনের ঘটনায় ৫ পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে কালিয়াচক থানার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে৷ সিলামপুর হাসপাতালেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে৷ গোটা ঘটনার পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে৷ তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি৷ এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশের লাঠিচার্জে এদিন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও আহত হয়েছেন৷ তবে আহতদের কেউ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হননি৷

#Misc #DigitalDesk

2 views

বিজ্ঞাপন

Valentines-day.jpg
পপুলার

805

1

পরাজিত প্রার্থী পেল জয়ীর কেন্দ্রের টিকিট, বিধানসভা বদল জয়ীর

পরাজিত প্রার্থী পেল জয়ীর কেন্দ্রের টিকিট, বিধানসভা বদল জয়ীর

618

2

নিখোঁজ চার কিশোরের সন্ধান পেল পুলিশ

নিখোঁজ চার কিশোরের সন্ধান পেল পুলিশ

621

3

স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদের উদ্ধার, চাঞ্চল্য ইংরেজবাজারে

স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদের উদ্ধার, চাঞ্চল্য ইংরেজবাজারে

1678

4

মালদায় পা রেখেই বিরোধী শূন্য করার হুঙ্কার ইয়াসিনের

মালদায় পা রেখেই বিরোধী শূন্য করার হুঙ্কার ইয়াসিনের

641

5

নেত্রীর আগেই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা সাবিত্রীর

নেত্রীর আগেই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা সাবিত্রীর
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS