দোল-হোলি

ভারতবর্ষ বহু মানুষের মিলনক্ষেত্র৷ স্বাভাবিক কারণেই প্রতিটি ধর্মের নানা সংস্কৃতি, নানা উৎসব এখানে আছে৷ আবার সেগুলির মধ্যে এমন কিছু উৎসব আছে যা জাতি-ধর্মের সংকীর্ণ বেড়া টপকে যায় তার সর্বজনীন আবেদনের কারণে৷ ‘রং’এর উৎসব হোলি বা দোল এমনই একটি উৎসব, যা সারা দেশে সমস্ত মানুষের মধ্যেই পালিত হয় এবং প্রত্যেকের মনে আনন্দের সঞ্চার ঘটায়৷


হিন্দু সংস্কার মতে বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদের রক্ষা এবং দুরাচারী, নাস্তিক, অহংকারী হিরণ্যকশিপু ও তার ভগিনী হোলিকার নাশ থেকেই এই উৎসবের সূচনা৷ প্রতিবছর ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়৷ সাধারণভাবে দোল উৎসব দুই দিনে অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রথম দিন ‘দেবদোল’– যা হিরণ্যকশিপু ও হোলিকার নিধন উপলক্ষ্যে ও দ্বিতীয় দিন ‘দোল’– পরম করুণাময় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীময়ী রাধার ‘রং’ উৎসবকে স্মরণে রেখে পালিত হয়৷ অন্যদিকে, মর্ত্যদেহধারী শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার যুগলস্বরূপ মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেন বলেও এই দিনটির একটি বিশেষ গুরুত্ব আছে৷

ভৌগোলিকভাবে মালদা জেলা বরিন্দ, টাল ও দিয়ারা এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত৷ বরিন্দ অঞ্চলের অধিবাসীরা ভোজপুরী, সাঁওতাল, মুণ্ডা, হো, মালপাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ৷ দিয়ারা অঞ্চলের অধিবাসীরা ওঁরাও, মুসহর, চামার, বিন, কোড়া, মুণ্ডা, নুনিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ৷ টাল অঞ্চল সহ বরিন্দ এলাকায় কিছু কিছু মাড়োয়ারি ও আগরওয়ালা সম্প্রদায়ের জনবসতি লক্ষ করা যায়৷ এদের অনেকে রাজা মানসিংহ-এর আমলে রাজার সৈনিক হিসেবে দ্বারভাঙ্গা থেকে মালদায় উপস্থিত হন৷ ‘মিথিলা’ থেকে মৈথিল সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ ও নানা কারণে মালদায় বসতি গড়েন৷ তবে বর্তমান ঝাড়খণ্ড, বিহার, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ থেকে যাঁরা মালদায় এসেছিলেন রাজার সৈন্যবাহিনীতে যোগ দিয়ে জীবিকা অর্জন করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য৷ পরবর্তীতে বংশানুক্রমে মালদা জেলায় বসবাসের কারণে মালদাকেই তাঁরা জন্ম ও কর্মভূমি বলে মনেপ্রাণে গ্রহণ করে নেন৷ তবে একথা ঠিক পূর্বের স্মৃতিকথা তাঁদের কাছে কিছুটা ম্লান হয়ে এলেও নিজ পিতৃপুরুষের শিক্ষা-সংস্কৃতি, উৎসব অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁদের গভীর নিষ্ঠা আগের মতোই বজায় থাকে৷ এইসব বাইরের মানুষ, বিশেষত গো-বলয় থেকে নানা কারণে যাঁরা মালদায় এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে হোলিকা দহন ও হোলি উৎসবের একটা আলাদা গুরুত্ব ছিল৷ তাঁরা মনে করতেন, হোলিকার পবিত্র আগুনে তাঁদের অন্যতম ফসল ‘গম’ নিজ নিজ পূর্বসূরীদের নামে উৎসর্গ করার পর গ্রহণ করলে ঘরে সুখ সমৃদ্ধি বিরাজ করে৷ হোলিকার পবিত্র ভস্ম শিরে ধারণ করলে যে কোনো অশুভশক্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়৷ এই বিশ্বাস থেকেই মালদা জেলায় দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন কল্পে পালিত হতে থাকে ‘হোলি’৷ এই হোলি বা ফাগুয়া উৎসবে নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করা হলেও গমের আটা ও গুড় সহযোগে তৈরি মালপোয়া সকলের কাছে বিশেষ সমাদর লাভ করে৷

স্কেচ - প্রণবকুমার কুণ্ডু

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.