জাতীয় পতাকা নিয়ে উদাসীনতা!

জাতীয় পতাকা নিয়ে উদাসীনতা!


সারা দেশে গতকাল আয়োজিত হল ৫৯তম প্রজাতন্ত্র দিবস৷ সকালের নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় পতাকা তুললেন প্রধানমন্ত্রী থেকে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷ এমনকি জেলাস্তরেও সম্মানের সঙ্গে পালিত হল বিশেষ এই দিনটি৷ সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনে প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন এগিয়ে এসেছে৷ অদ্ভুত হলেও সত্যি, এমন একটি দিনে দুপুর দুটো পর্যন্ত জাতীয় পতাকা তোলা হল না হবিবপুর ব্লক অফিসে৷ অথচ সেই অফিস চত্বরেই বসবাস করেন বিডিও থেকে শুরু করে একাধিক কর্মী৷ সব দেখেশুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষজন৷ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা৷ এরপরেই হুঁশ ফেরে প্রশাসনের৷ বেলা সোওয়া দুটো নাগাদ উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা৷


প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি থাকলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক ছিল৷ সেই মতো প্রতিটি জায়গাতেই সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়৷ কিন্তু বেলা গড়িয়ে গেলেও হবিবপুর ব্লক অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা৷ দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ তাঁরা হাতে পোস্টার নিয়ে বিডিও’র বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে অফিস চত্বরে ঢোকেন৷ তাঁরা সঙ্গে একটি জাতীয় পতাকাও নিয়ে এসেছিলেন৷ তাঁরাই সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে চান৷ যদিও তাঁদের নিরস্ত করা হয়৷ কোথাও থেকে খবর পেয়ে ততক্ষণে হাঁফাতে হাঁফাতে সেখানে ছুটে এসেছেন জয়েন্ট বিডিও৷ শেষ পর্যন্ত সোওয়া দুটো নাগাদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি৷

বিক্ষোভকারীদের একজন বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা ছোটো থেকেই দেখে এসেছেন স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসে বিডিও অফিসে জাতীয় পতাকা তোলা হয়৷ কিন্তু এবার দুপুর ২টো পর্যন্ত জাতীয় পতাকা সেখানে তোলা হয়নি৷ তাঁরা মনে করেন, এই ঘটনা তাঁদের লজ্জা, সমাজের লজ্জা, দেশের লজ্জা৷ তাই তাঁরাই এদিন সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা তুলতে এসেছেন৷

হবিবপুরের বিডিও রেণুকা খাতুন অসুস্থ৷ তিনি জানিয়েছেন, নিজের অসুস্থতার জন্য তিনি এদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব জয়েন্ট বিডিওকে দিয়েছিলেন৷ দুপুর পর্যন্ত কেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হল না, তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন৷ এদিকে জয়েন্ট বিডিও তরুণকুমার বর্মণ বলেন, ২৩ জানুয়ারি তিনিই অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন৷ এদিন পতাকা উত্তোলনের দায়িত্বও তাঁর উপর ছিল৷ কিন্তু এদিন সকালে তিনি বুলবুলচণ্ডী চলে যান৷ বুলবুলচণ্ডী স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন সেখানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল৷ সেখানেই অংশ নিতে তিনি তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যান৷ এদিন যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী৷ দেশপ্রেমিক মানুষজন সহ একজন দায়িত্বপূর্ণ মানুষ ও সরকারি প্রতিনিধি হিসাবে তিনি মার্জনা চাইছেন৷ আগামীতে এমন ভুল যাতে আর না হয় তার দিকে তিনি লক্ষ রাখবেন৷ এদিন নিজের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তরুণবাবু বিক্ষোভকারী এলাকাবাসীকেও ধন্যবাদ জানান৷

কার ভুলে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা হয়তো তদন্তসাপেক্ষ৷ কিন্তু এই ভুলে মালদার মাথায় যে কলঙ্কের কাঁটা বিঁধে গেল, তা কি সহজে মুছে ফেলা যাবে? জেলাশাসক ফোন না ধরায় এই ঘটনায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ তবে গোটা ঘটনায় ফঁসছে হবিবপুর৷

#Misc #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.