কালিয়াচকে ভাঙচুর লুঠপাট ব্যবসায়ীর বাড়িতে

কালিয়াচকে ভাঙচুর লুঠপাট ব্যবসায়ীর বাড়িতে


জমি বিবাদের জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কালিয়াচক৷ স্থানীয় দুষ্কৃতীদের দাপটে গতকাল ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকলেন সিলামপুর গ্রামের চুড়িমোড় সংলগ্ন এলাকার মানুষজন৷ প্রায় ১৫০ দুষ্কৃতী অবাধে ভাঙচুর ও লুঠপাট চালাল এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে৷ তাদের হামলায় আহত হয়েছেন ওই ব্যবসায়ী পরিবারের তিন সদস্য৷ তাঁদের মধ্যে দু’জন মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ দুষ্কৃতীদের আতঙ্কে এখনও আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি৷ এদিন তাঁরা সেই অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন৷

কালিয়াচক থানার সিলামপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিক মোমিন(৪৬)। রফিক সাহেব জমি ব্যবসায়ী৷ চুড়িমোড়ে তাঁর বিশাল বাড়ি৷ তাঁর দুই ছেলে সাফিকুল ইসলাম ও আসগার আলি ইটভাটার চিমনি সরবরাহের ব্যাবসা করেন৷ স্বচ্ছল পরিবার তাঁদের৷ ৭-৮ মাস আগে রফিক সাহেব ওই থানারই আলিনগর এলাকায় প্রায় ৫ বিঘা জমি কেনেন৷ সেই জমির কিছু অংশ তিনি এর মধ্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন৷ তবে তার রেজিস্ট্রি এখনও হয়নি৷ ওই জমিকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীদের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয় তাঁর৷


রফিক সাহেব জানান, গতকাল বিকেলে এলাকারই এক দুষ্কৃতী আজিম শেখ সহ ৬ জন তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে বেরিয়ে আসতে বলে৷ তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে তারা তাঁকে বলে, তাদের ১০ কাঠা জমি আলিনগরে রয়েছে৷ সেই জমি তাঁকে কিনতে হবে৷ কিন্তু ওই জমি কিনে তাঁর কোনও লাভ হবে না৷ তাই তিনি ওই জমি কিনতে অস্বীকার করেন৷ তখনই তাঁকে মারতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা৷ তাঁকে আক্রান্ত হতে দেখে তাঁর ছেলে সাফিকুল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে৷ সে এক দুষ্কৃতীকে এক চড়ও কষায়৷ আজিমরা তখনকার মতো সেখান থেকে চলে যায়৷ খানিক বাদেই তারা ফের ফিরে আসে৷ তাদের সঙ্গে প্রায় ১৫০ মানুষ৷ তারা এসেই তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে শুরু করে৷ কয়েকজন বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়৷ বাড়িতে থাকা ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ৭ ভরির সোনার গয়না লুঠ করে নেয় তারা৷ বাধা দিতে গিয়ে তাদের হাতে বেধড়ক মার খান তাঁর ভাই আকবর আলি, বোন মানোয়ারা খাতুন ও মেয়ে সঞ্জিনা খাতুন৷ দুষ্কৃতীদের দাপটে বাড়ির ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়৷ তাঁরা কোনও রকমে তাদের বের করে বাড়ির মূল দরজার সাটার লাগিয়ে দেন৷ খবর দেন কালিয়াচক থানায়৷ পুলিশ আসার আগেই সেখান থেকে চলে যায় আজিমরা৷

সাফিকুলের জানায়, এলাকার আজিম শেখ ও ডাম্পি শেখ, সুলতানগঞ্জের মুক্তার শেখ ও ওয়েদুর শেখ, কালিকাপুরের টনি শেখ ও মার্চেন্ট শেখ, সর্দারটোলার সামশের শেখের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে৷ তারা কালিয়াচক থানার পুলিশ, এমনকি সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও কিনে রেখেছে৷ ঘটনার পর তাঁরা আহত ৩ জনকে সিলামপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে দেখেন, হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে আজিমরা৷ সেখান থেকে তাঁর বোনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর কাকা ও পিসির আঘাত বেশি থাকায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ কিন্তু হাসপাতালেও দুষ্কৃতীদের দেখে ভয়ে তাঁরা কাকা ও পিসিকে মালদা মেডিকেলে নিয়ে যান৷ বার বার বলা হলেও সিলামপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁদের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেননি৷ এই অবস্থায় তাঁরা আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না৷ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানাতেও লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেননি৷ এদিন তাঁরা সেই অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন৷

কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকর্মীরা চুড়িমোড় এলাকায় ছুটে যান৷ প্রাথমিক তদন্তও করেন তাঁরা৷ কিন্তু এদিন সকাল পর্যন্ত এনিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি৷ অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে৷

#Crime #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

জুলুমে রাস্তা সাফ হরিশ্চন্দ্রপুরে

দাপটের জন্য এলাকায় জুলুম সিং নামে পরিচিত৷ তাঁর ভয়ে রাস্তায় নোংরা ফেলার জো নেই কারোর। সকাল থেকে সন্ধে ঝাঁটা হাতে এলাকা পরিষ্কার রাখতে দেখা...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.