ওঝার কেরামতিতে প্রাণ হারাতে হল যুবককে

ওঝার কেরামতিতে প্রাণ হারাতে হল যুবককে



ওঝার কেরামতিতে প্রাণ হারাল এক যুবক৷ ঘটনার কথা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে৷ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও৷ বিগত সোমবারের এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দুদিন পর সামনে আসে। ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের হালনা মহম্মদপুর গ্রামে৷

মহম্মদপুরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আসাদুল্লা শেখ৷ বয়স ৩০ বছর। পেশায় দিনমজুর৷ বাড়িতে রয়েছেন বাবা মহম্মদ কেরামন আলি, মা আসমাউন বিবি, স্ত্রী লাকি বিবি ও তাঁর তিন ছেলেমেয়ে৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসাদুল্লা গত রবিবার হঠাৎ পড়ে যান৷ তারপর থেকে তাঁর বাম হাত ও পা অসাড় হয়ে যায়৷ স্বামীর এই অবস্থা দেখে লাকি বিবি আসাদুল্লাকে সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নিয়ে যান তাঁর বাবার বাড়ি গাজোলের দেওতলায়৷ সেখানে এক গুণিনের কাছে স্বামীর চিকিৎসা করান তিনি৷ পরদিন ফের আসাদুল্লাকে নিয়ে তিনি মহম্মদপুরে ফিরে আসেন৷ এবার স্বামীর চিকিৎসার জন্য ফজলু রহমান নামে স্থানীয় এক গুণিনের সাহায্য নেন তিনি। সোমবার বেলা ৩টে নাগাদ ফজলু আসাদুল্লাদের বাড়িতে আসে৷ শুরু হয় ঝাড়ফুঁকের নামে অত্যাচার৷ অসুস্থ আসাদুল্লার শরীরে ভূত ঢুকেছে এই বলে সে আসাদুল্লাকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে৷ অসুস্থ শরীরে একসময় নেতিয়ে পড়েন তিনি৷ সন্ধে ৬টা নাগাদ সেখান থেকে চলে যায় ফজলু৷ এদিকে ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন আসাদুল্লা৷ শেষ পর্যন্ত রাত ৮টা নাগাদ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মালদা মেডিকেল কলেজে৷ তবে শেষ রক্ষা হয়নি৷ মঙ্গলবার সকালে মারা যান তিনি৷ যদিও এই ঘটনায় পুলিশে কোনও অভিযোগ না করে মৃতদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে এনে আসাদুল্লাকে সমাধিস্থ করে দেন পরিবারের সদস্যরা৷

ফজলু গুণিনের কেরামতি নিজের মোবাইল ফোনে তুলে রাখেন ওই গ্রামেরই এক বাসিন্দা৷ বুধবার তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন তিনি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। আসাদুল্লার বাবা বলেন, ‘ছেলেটার হঠাৎ যে কী হল! অসুস্থ হতেই ওর বউ তাকে নিয়ে চলে গেল বাবার বাড়িতে৷ সেখানে ওঝার কাছে ছেলেটার চিকিৎসা করাল৷ সেখানকার ওঝার কাছে চিকিৎসা করিয়ে অসুখ আরও বেড়ে যায়৷ ওকে নাকি ভূত ধরেছে৷ আবার এখানকার ওঝাকে ডেকে আনল ওর বউ। এই ওঝাও বলল, আসাদুল্লাকে ভূত ধরেছে৷ মেরে মেরে ভূত ছোটাতে হবে৷ না মারলে বলে ভূত কথা শুনবে না৷ একথা বলে ওঝা আসাদুল্লাকে মারধর শুরু করে৷ তাতে ছেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে৷ অবশেষে রাতে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যাই৷ কিন্তু সে মারা যায়৷’

মহম্মদপুর গ্রামের এমন ঘটনায় যথেষ্ট বিব্রত স্থানীয় তৃণমূলি পঞ্চায়েত সদস্য জিসান আলি৷ তিনি বলেন, ওঝার কেরামতিতে একজনের মৃত্যুর খবর গতকাল তিনি শুনেছেন৷ অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা৷ তাঁরা আগে বিষয়টি জানতেন না৷ জানলে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতেন৷ ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে তার দিকে তাঁরা নজর রাখবেন৷ এনিয়ে তাঁরা গ্রামবাসীদের সচেতন করবেন৷ এপ্রসঙ্গে পুরাতন মালদার বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, তিনিও ঘটনাটি শুনেছেন৷ তাঁরা গোটা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন৷ যে ওঝার কেরামতিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে সেই ওঝার বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য ওই এলাকায় সচেতনতা প্রচারও চালানো হবে৷

ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার আসাদুল্লার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে ফজলু৷

#DigitalDesk #Video #Misc

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.