আহারে ভাগাড়ে

আহারে ভাগাড়ে



ভাগাড় কাণ্ডটা কিন্তু একদম সিরিয়াস একটা ব্যাপার৷ তবু এই আহাম্মক ফেসবুক জেনারেশন ওটা নিয়েও টীকা টিপ্পনী কাটতে ছাড়ল না৷ এই জেনারেশন যে কবেই উচ্ছন্নে গেছে সেতো জানা কথা, পাতালে সিধিয়ে হাগ-ফাগ করছে, কাজেই ওদের কথা ধরার দরকার নেই৷ কিন্তু ‘জোকস’ গুলো যে ভাঙ্গড়ের বাগানে বেড়াতে আসা তাজা বোমাগুলোর মতো আছড়ে পড়ছে আপনার মোবাইলে৷ সেগুলো দেখে/পড়ে হাসবেন না বমি করবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা না হয় ভাগাড়ের আশেপাশে একটু ঘুরি৷

শকুন ভাবেনি কভু এই পচা ভাগাড়ে, মানুষ বসাবে থাবা তার প্রিয় আহারে৷ বেশ কিছুদিন ধরেই শকুন কম পড়িতেছিল৷ বাম আমলে ভাবছিলাম শিল্প হচ্ছে৷ খানিকপর চোখ রগড়ে দেখি আরে না না, এ তো উন্নয়ন হচ্ছে৷ আমার সোনার বাংলা তো আর ইথিওপিয়া না যে রাস্তাঘাটে মৃতদেহ পড়ে থাকবে আর তার ওপরে শকুন চক্কর কাটবে! উন্নয়নের সাইক্লোনে সব শকুন উড়ে বাংলাদেশ চলে গেছে, এমনটা ভেবে বেশ শান্তিতে ছিলাম৷ এত্তদিনে আসল কথাটা জানলাম৷ শকুনের খাবারও যদি মানুষ প্লেটে তুলে নেয়, স্ট্রেট ফ্রম ভাগাড়, শকুন বেচারা আর ভাগাড়ে গিয়ে কী করবে? কিন্তু, কানে কানে বলি, ওরা মুম্বই যেতে পারে৷ পার্সিদের ভয়ানক মরদেহ সৎকারের সিস্টেমটা জানেন তো? পার্সি মরদেহ দাখমা বা টাওয়ারের টঙে রেখে আসা হয় আর শকুন সেটা খুবলে খেয়ে সাফ করে দেয়৷ কিন্তু ইদানীং মালাবার হিলসের দাখমায় শকুনের অভাব হওয়ায় পার্সিরা মহা চিন্তায় পড়েছে৷ তারা নাকি শকুন ফেরানোর নানান চেষ্টাও করছে৷ কাজেই ভাগাড় থেকে শকুন হাওয়া হওয়ার একটা মুম্বই কানেকশন আছে৷ আচ্ছা, মুম্বইতে যেন কাদের সরকার?

কী স্পর্ধা মাইরি৷ পাশ থেকে এক নেড়ি গান গাইতে গাইতে চলে গেলো এবার মরলে মাটন হব৷

এটা একদম হেজেমনির গল্প৷ বলে গেছিলেন আন্টোনিও গ্রামশি৷ যুগ যুগ ধরে পাড়ার ছেলেদের ঢিল হজম করে কিংবা চারচাকা টু আটচাকার তলায় পড়ে পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটেছিল যেসব নেড়ির তাদের দিকে ফিরেও তাকাননি তো? মাইন্ড ইট, নেড়ি৷ ভরা সংসারে মা, বাবা, দাদা, দিদি রেখে যেসব আদরের টমি, নটি, জ্যাকি, কিউটিরা দেহ রাখছে চোখের জলে, তারা হেজেমনিতে নেড়িদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, ভাগাড় থেকে বহু দূরে৷ তাদের কফিনে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে, শ্রাদ্ধশান্তিও হচ্ছে৷ কিন্তু এতদিন যে নেড়ির মৃতদেহ দেখেও না দেখার ভান করেছেন, তার ভূত জ্যান্ত নেড়ির কানে বলে গিয়েছে ভাগাড় কাণ্ডের কথা, দিয়ে গিয়েছে প্রতিরোধের স্পর্ধা৷ পুঞ্জিত অবহেলা অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷ তাই ডোবারম্যান, ডালমেশিয়ান বা জাত খুইয়ে নিদেনপক্ষে পাঁঠা না হতে পারুক, মরার পর পাঁঠার মাংস হওয়ার স্বপ্ণ আজ নেড়ির দুচোখে৷ হেজেমনির সিঁড়ি বেয়ে সে উঠবেই, আবার এতকালের বঞ্চনার জবাবও দেবে৷ ঢিল মারার সময় বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সময় মনে ছিল না তো, এবার প্লেটে উঠে প্রতিশোধ নেবে নেড়ি৷

খাইয়া পাঁঠা তুলিলাম ঢেঁকুর, পেট থেকে পাঁঠা বলিল পাঁঠা নই গো আমি পাঁঠারূপী কুকুর৷ আর সঙ্গে সঙ্গে ওয়াক থুঃ৷ একটা জিনিস লক্ষ করার৷ টাইমিং৷ ঢেঁকুর অবধি পরম তৃপ্তি, কিন্তু পেটের ভেতরের আওয়াজ শুনেই তৃপ্তি পালটে গেল ঘেন্নায়৷ আসলে ইগনোরান্স ইজ ব্লিশ, সমস্যাটা জানায়, নলেজে৷ যেমন ধরুন গোটা গ্রিক ট্র্যাজেডির ভিত্তি এই নলেজে৷ গ্রিক মিথলজির চেনা গল্পঃ আত্রিউস প্রতিশোধ নিতে থাইস্টিসের দুই পুত্রকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কেটে রান্না করে থাইস্টিসকেই খাইয়ে দেয়৷ খেয়েদেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে থাইস্টিস৷ তারপর আসে ভয়ংকর নলেজ৷ আমরা অত কেউকেটা নই৷ তবু ভাগাড়ের কুমাংস হজম করে আমরা আসলে মিথের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি৷ তাইতো টুইটারে হ্যাশট্যাগ পড়ছে ফিলিং ঈশ্বর ঈশ্বর৷

বাঙালির রসনাতৃপ্তির একপ্রকার বাসমতী চালের ভাত থেকে কচি পাঁঠার ঝোল, সরষে ইলিশ, ভাপা চিংড়ি হয়ে দই অবধি৷ এটা পয়লা বৈশাখের মেনু৷ আর একটা নিউ ইয়ার পার্টির ‘কুল’ বাঙালি যেখানে পাতে চাই বার্গার থেকে লেবানিস চিকেন৷ এই দুয়ে মিলে বিশ্ব বাঙালি৷ ভাগাড় কাণ্ড এই দুই বাঙালির বাঙালিয়ানায় বিরাশি সিক্কার থাপ্পড় কষিয়েছে৷ সাবধানবাণীও আসছে তাই কেউ কেউ নিজে দোকানে গিয়ে পাঁঠা কাটা থেকে পিস পিস হয়ে ব্যাগে চালান দেওয়া অবধি গোল গোল চোখে বিশদে পর্যবেক্ষণ করছেন৷ যার হার্ট দুর্বল সে নিরামিষের পথে হাঁটছে৷ এমন দিন খুব দূরে নয় যখন নেমন্তন্ন করে মাংস কাটার পুরো প্রক্রিয়াটা সকালে ইউটিউবে আপলোড করতে হবে৷ যারা লাইক করল জানবেন সন্ধেয় তারাই নেমন্তন্ন খেতে আসছে৷ বাকিরা নৈব নৈব চ৷

কার্টুনঃ মৃণাল শীল।

#SamipendraBanerjee #MrinalSeal

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.