বিজ্ঞাপন

সরকারি ইন্ধনেই কি পাহাড়ের এই পরিস্থিতি?

শৈলরানি দার্জিলিং এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছেই নেই৷ না রাজ্য, না কেন্দ্র, না সাধারণ মানুষের কাছে৷ যদিও সবাই হা হা করে বলবেন কেন যেখানে ছিল দার্জিলিং সেখানেই আছে৷ পশ্চিমবঙ্গেরই একটা জেলা৷ একদিকে ঠিক৷ কিন্তু এই উত্তর রাঢ় বাস্তবে প্রায় সবটাই আবেগে মোড়া৷ বাস্তবটা বলছে অন্য কথা৷ দার্জিলিং এখন এক দূরতর, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ৷



রাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে কোনো অবস্থাতেই ঠিক অনুভব করা যাবে না পাহাড়ের বাস্তব অবস্থাটা৷ যেভাবে সেখানকার মানুষগুলো বেঁচে আছে তাকে কতটা মানবিক বলা যায়, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷ দার্জিলিং জায়গাটা নিয়ে অন্য মানুষের মধ্যে আবেগ আছে কিন্তু সেখানকার বাসিন্দাদের নিয়ে সেই আবেগের ছিঁটেফোঁটাও নেই রাজ্য, কেন্দ্র বা সাধারণ মানুষের মধ্যে৷ দৈনন্দিন জীবনচর্যার জন্য যা যা প্রয়োজন তার প্রায় কিছুই নেই৷ ঠিকমতো জল পাওয়া যায় না, ন্যূনতম চাহিদা মতো বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ নেই৷ খাবারের পরিমাণ কোনোমতে দিন কাটানোর মতো, পর্যাপ্ত তাকে কিছুতেই বলা যাবে না৷ সমতলের হিংস্র মানুষ পাহাড়ের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ওঠা গাড়ি আটকাচ্ছে, লুঠ করছে ভাঙচুর করছে সমতলেই৷

‘তোরা আন্দোলন করছিস, তোদের খাবার খেতে দেব না’-- পরিষ্কার এই ভাষায় হুমকি৷ প্রশ্ন উঠবেই-- তাহলে কি আন্দোলন করা অপরাধ৷ গণতান্ত্রিক দেশে যাবতীয় গণতান্ত্রিক অধিকার, সুযোগসুবিধে ভোগ করবে কিছু মানুষ আর বাকিরা বঞ্চিতই থেকে যাবেন- এটাই কি গণতন্ত্র??

পাহাড়ে এত দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আগে কখনও হয়নি৷ অদ্ভুত বিষয় হল, এত দীর্ঘ বন্ধ, সাত/আট জনের মৃত্যু, এত কিছু নেই-- তা সত্ত্বেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই৷ যেন পাহাড়ের মানুষগুলো এখানকার মানুষই নয়৷ আন্দোলন করার গণতান্ত্রিক অধিকার তো সকলেরই রয়েছে৷ পাহাড়ের মানুষ যদি খুব অন্যায় কাজ করেন তাহলে সেখানে তো পুলিশের সংখ্যা কম নেই৷ তারা একজনকেও গ্রেফতার করছে না কেন? এর অর্থ পাহাড়ের মানুষ কোনো ভুল কাজ করছে না, কিংবা সেখানকার আন্দোলনের পিছনে সরকারের মদত, ইন্ধন রয়েছে৷ তাই যদি হয় তখন তো প্রশ্ন উঠবে কেন?

বস্তুত, দার্জিলিং পাহাড় নিয়ে সমতলের মানুষ যাই বলুক না কেন, এটা এখন পরিষ্কার কঠোর বাস্তবের মাটিতে আবেগের কোনো দাম নেই৷ বর্তমান আন্দোলনের প্রথম দিকে হিংসার ঘটনা তো ঘটেইছে কিন্তু এখনও যেভাবে সেখানকার মানুষ শান্ত রয়েছেন তাকে সরকার যদি দুর্বলতা বলে ধরে নেয়, সেটা হবে মারাত্মক ভুল৷ কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাহাড় সমস্যাকে দেখছে, তাকে কল্যাণকর রাষ্ট্রের ভূমিকা বলা চলে না কোনোমতেই৷ বরং সরকারের পদক্ষেপে পাহাড়ের মানুষ আরও দূরে সরে যাচ্ছে৷ তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার বীজ রোপণ করছে সরকারের এহেন নীরবতা৷ পাহাড়ের কাছ থেকে আমরা শুধু নিয়েই গিয়েছি, ফিরিয়ে কিছুই দিইনি- এটা কঠোর বাস্তব৷ আলাদা রাজ্যের দাবি ঠিক না ভুল তা দেখার জন্য সংবিধান রয়েছে, আইন রয়েছে৷ সেই অনুযায়ী সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করুক৷ আসলে সরকার নিজের ইগো ছেড়ে আসতে চায় না, ভোটের স্বার্থে পাহাড় সমস্যার সমাধান করতে চায় না৷ মাঝখান থেকে অসীম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কিছু সাধারণ মানুষকে, যাদের কাছে সমতলের মানুষ, সমতলের সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে৷

#RamanujMitra #DigitalDesk

বিজ্ঞাপন

Malda Guinea House.jpg

পপুলার

1

মানিকচকে গঙ্গায় ডুবল ভেসেল, সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজ

Popular News

577

মানিকচকে গঙ্গায় ডুবল ভেসেল, সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজ
2

সুজাপুরে বিস্ফোরণস্থলে এলেন ফিরহাদ হাকিম, আসছে ফরেনসিক দল

Popular News

699

সুজাপুরে বিস্ফোরণস্থলে এলেন ফিরহাদ হাকিম, আসছে ফরেনসিক দল
3

তীব্র বিস্ফোরণ সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায়

Popular News

1296

তীব্র বিস্ফোরণ সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায়
4

দোকানে হানা, মাদক বিক্রেতাদের কঠোর বার্তা পুলিশের

Popular News

542

দোকানে হানা, মাদক বিক্রেতাদের কঠোর বার্তা পুলিশের
5

সংক্রমণ রুখতে এবার বন্ধ গোবরজনায় কালীপুজোর মেলা

Popular News

752

সংক্রমণ রুখতে এবার বন্ধ গোবরজনায় কালীপুজোর মেলা
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট
কমেন্ট করুন
 

aamadermalda.in

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS