বিজ্ঞাপন

নিগৃহীত চিকিৎসককেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করল কর্তৃপক্ষ



তিনি একজন সিনিয়র হাউস স্টাফ মাত্র। প্রায় চার বছর ধরে তিনি মালদা মেডিক্যাল কলেজে রয়েছেন। একজন হাউস স্টাফ এতদিন কোনও কলেজে থাকতে পারেন না।

গতকালই মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের হাতে এক সিনিয়র চিকিৎসকের মার খাওয়ার ঘটনা খবরে উঠে আসে। সেই ঘটনার তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলেন মালদা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমার মধ্যেই জমা পড়েছে তদন্ত রিপোর্ট। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এদিন মেডিক্যাল কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক বসে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেদিন নিগৃহীত ওই সিনিয়র চিকিৎসককেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করেছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার জন্য অধ্যক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে মালদা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন সর্পাহত এক রোগীর চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার শুরু। ওই রোগীকে পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দেন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক আকতারুজ্জামান। কিন্তু তাঁর লেখা সেই প্রেসক্রিপশন অগ্রাহ্য করার অভিযোগ ওঠে কিছু জুনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। আকতারুজ্জামান সাহেবই সেই অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, এনিয়ে তিনি যখন মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন তখন তাঁকে বেদম মারধর করে এক হাউস স্টাফ সহ তিন জন জুনিয়র। আঘাতের জন্য তাঁকে মালদা শহরের একটি নার্সিং হোমে ভর্তি হতে হয়।

এরপর জুনিয়রদের চাপ বাড়তে থাকে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর। ঘটনার তদন্তের জন্য মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের প্রধান, ডেপুটি সুপার ও হোস্টেল সুপারকে নিয়ে একট তদন্ত কমিটি গড়েন সহকারী অধ্যক্ষ অমিত দাঁ। ওই কমিটিকে ৪৯ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে।

এদিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রতীপ কুণ্ডু বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী আকতারুজ্জামান সেদিন নিজের গাড়ির চালককে নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জুনিয়রদের কোয়ার্টারে ঢুকেছিলেন। তাঁর উচিত ছিল গোটা ঘটনাটি তাঁদের জানানো। কিন্তু তা তিনি করেননি। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এরপরেই অধ্যক্ষ যা বলেন তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। তিনি সাফ জানান, আকতারুজ্জামান মোটেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের আওতায় পড়েন না। তিনি একজন সিনিয়র হাউস স্টাফ মাত্র। প্রায় চার বছর ধরে তিনি মালদা মেডিক্যাল কলেজে রয়েছেন। একজন হাউস স্টাফ এতদিন কোনও কলেজে থাকতে পারেন না। কিন্তু তিনি কীভাবে এতদিন এখানে রয়েছেন তা তাঁর জানা নেই। এসব কারণেই আকতারুজ্জামানকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করছেন।

আগের খবরঃ মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়রদের হাতে আক্রান্ত সিনিয়র চিকিৎসক

আকতারুজ্জামানের অভিযোগের তালিকায় থাকা দীপাঞ্জন মণ্ডলের বক্তব্য, আকতারুজ্জামান আর চিকিৎসক সুদীপ ভড়ের মধ্যে ওই রোগীকে নিয়ে বাদানুবাদ হয়। তিনি দুজনকে বিষয়টি বাইরে মিটিয়ে নিতে বলেন। এরপরেই জামান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁদের ঘরে ঢুকে সুদীপবাবু সহ অম্লান ভট্টাচার্য ও তাঁকে জুতো দিয়ে মারতে শুরু করেন। তাঁরা তিন জনই আহত হন। দীপাঞ্জনের দাবি, জামান নিজের নামের পাশে এমবিবিএস ও এমডি লেখেন। কিন্তু তিনি কখনই এমডি নন। রাশিয়া থেকে তিনি যে ডিগ্রি পেয়েছেন তা এমবিবিএস-এর সমতুল। তিনি সাধারণ মানুষকে বোকা বানান। মালদা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের একশ্রেণির চিকিৎসকের জন্যই তিনি এতদিন এখানে রাজত্ব চালাচ্ছেন। যদিও জামান সাহেবের ডিগ্রির বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলতে পারেননি অধ্যক্ষ।

এদিকে আকতারুজ্জামানের পরিবারের লোকজনের দাবি, তিনি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন পেয়েই চিকিৎসা করেন। এক্ষেত্রে তিনি কোনও আইনবিরুদ্ধ কাজ করেননি।

#Medical #DigitalDesk #PostMortem

1 view

বিজ্ঞাপন

Valentines-day.jpg
পপুলার

556

1

নেত্রীর আগেই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা সাবিত্রীর

নেত্রীর আগেই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা সাবিত্রীর

838

2

দেড়শো জননেতা সহ গেরুয়া শিবিরে তৃণমূলের মালদা জেলা সাধারণ সম্পাদক

দেড়শো জননেতা সহ গেরুয়া শিবিরে তৃণমূলের মালদা জেলা সাধারণ সম্পাদক

1794

3

এখন ১২ মাস কাজ করবে মালদার সিভিক ভলান্টিয়াররা

এখন ১২ মাস কাজ করবে মালদার সিভিক ভলান্টিয়াররা

630

4

কাল মালদায় মমতা, সভামঞ্চে উঠতে করোনা পরীক্ষা

কাল মালদায় মমতা, সভামঞ্চে উঠতে করোনা পরীক্ষা

597

5

কালিয়াচকে সালিশি সভায় চলল গুলি, মৃত এক

কালিয়াচকে সালিশি সভায় চলল গুলি, মৃত এক
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS