বিজ্ঞাপন

ওরা পারে-পারে ওরা ফুল ফোটাতে

এবারের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে এক প্রধান শিক্ষক বললেন, জানেন-- আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জান লড়িয়ে পরিশ্রম করেন, ওঁদের আন্তরিকতার কোনো ত্রুটি নেই৷ অথচ দেখুন পরীক্ষার ফলাফলের দিক থেকে আমাদের বিদ্যালয়ের সুনাম হচ্ছে না৷

খবরের কাগজে কোনো প্রচার নেই৷ কেউ বুঝতে চায় না আমরা কী ধরনের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে থাকি, কত পরিশ্রম করে তাদের তৈরি করি৷ এবার এক অভিভাবকের সঙ্গে দেখা হল৷ মলিন মুখে বলেন, তাঁর ছেলেটি মাধ্যমিকে মাত্র শতকরা পঁচাশি নম্বর পেয়েছে৷ বড়ো কষ্ট তাঁর-- সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে৷ বুঝলাম, এঁদের নির্লজ্জ আমিত্ব বড়োই আহত হয়েছে৷ এঁদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা ছেলেমেয়েরা পূরণ করতে পারেনি৷


তাঁর ছেলেটি মাধ্যমিকে মাত্র শতকরা পঁচাশি নম্বর পেয়েছে৷ বড়ো কষ্ট তাঁর-- সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে৷ বুঝলাম, এঁদের নির্লজ্জ আমিত্ব বড়োই আহত হয়েছে৷ এঁদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা ছেলেমেয়েরা পূরণ করতে পারেনি৷

যারা ভালো ফল করেছে তারা বুক ফুলিয়ে এই হবো-ওই হবো বলে৷ তখন এঁদের ছেলেমেয়েরা মুখ লুকিয়ে ঘরের কোণে বসে থাকে৷ এদের বেরোনো বারণ৷ এদের জন্য লজ্জায় মাথা কাটা যায়!

এই ভালোভালো ছাত্রছাত্রীরা এদের ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে বেশ কয়েকটি শেখানো বুলি শোনায়৷ এদের মেন্টরদের পছন্দমতো বেশ কয়েকটি লোভনীয় পেশার উল্লেখ করে৷ কেউ বলে না-- আমি শিল্পী হতে চাই, জীবনকে জানতে চাই-- পৃথিবীকে চিনতে চাই, মানুষের জন্য আমার ভালো লাগা ও আমার ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চাই, নতুন কিছু করে দেখাতে চাই, আমার যা ভালো লাগে এবং আমি যা ভালোভাবে করতে পারি তাই করতে চাই, আমি আমার অন্তরের ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনে এগোতে চাই৷

এরা একথা বলে না কেন? কারণ, এদের নিজেদের ইচ্ছা ও ভালো লাগার কোনো দাম এদের অভিভাবকদের কাছে নেই৷ এঁরা সন্তানদের সামনে নিরলসভাবে হাজির করে চলেছেন ভয়ানক রংদার ঝকঝকে জীবনের হাতছানি৷ তাই এদের দৃষ্টি সংকীর্ণ৷ এদের ভাবনাচিন্তার প্রকৃতি ও পথ পরিকল্পিত ছাঁচে তৈরি৷

এই পর্যায়ের পরীক্ষাগুলির ফলাফল নিয়ে এত বাড়াবাড়ি-- সমাজে, মিডিয়ায়, প্রশাসনে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ধরনের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতেও বা কতজন সমর্থ হয়? সেই পরিসংখ্যান কি আপনাদের কাছে আছে? এদের হতাশার ছবিগুলি কি আপনারা দায়িত্ব নিয়ে প্রকাশ করবেন? আজ যারা পেছনের সারিতে, যাদের জন্য লজ্জায় মাথা কাটা যায় পরিণামে তাদের কারো কারো অবিস্মরণীয় সাফল্যের কথা কি আপনারা জানতে পারেন? তখন কি লজ্জায় আপনাদের মাথানত হয়? এদের সাফল্যের কত ভুরিভুরি উদাহরণ আছে, হয়তো শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নজর এড়িয়ে যায়৷

যারা ভালো ফল করল তারা আমাদের মতে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বা প্রতিভাধর৷ অন্যেরা সাধারণ বা মাঝারি৷ চরম সাফল্য এদের জন্য নয়৷ তাই আমরা এই প্রতিভাধরদের উৎসাহিত করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই বাড়াবাড়ি করি৷ অন্যেরা যে নিরুৎসাহ হতে পারে, তাদের ক্ষমতার স্বাভাবিক বিকাশ যে এই বাড়াবাড়ির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হতে পারে, তা ভেবে দেখি না৷ আমরা ভাবতেও পারি না যে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা বা শিক্ষাপদ্ধতি অনুযায়ী মূল্যায়নে কখনোই প্রকৃত ক্ষমতার বিচার হয় না৷ অনেক সময় এই শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল কল্পনা, উর্বর মন ও নিজস্ব চিন্তাশক্তির বিকাশ হয় না বরং অবক্ষয় হয়৷ আমরা জানি প্রতিটি ছাত্র বা ছাত্রীর নিজস্ব পছন্দ বা প্রবণতা আছে৷ এটিই জন্মগত৷ এই ক্ষমতা বা প্রবণতার উপযুক্ত বিকাশ হলেই প্রকৃত প্রতিভার জন্ম হয়৷ এই ক্ষমতাটির উন্মেষ সাধনে যদি আমরা পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারি তাহলেই ওদের মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষার জাগরণ হয়৷ এই আকাঙ্ক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত৷ তখন এই আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য এরা কঠোর পরিশ্রম করতে পারে৷ ওরা নিজের ক্ষমতায় আস্থা ফিরে পায়৷ তখন অন্য কারো সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই৷ ওরা নিজের জ্ঞান ও ক্ষমতায় বর্তমান স্তরকে অতিক্রম করে সানন্দে পরবর্তী স্তরে পৌঁছানোর নিরলস প্রচেষ্টায় ব্যাপৃত হয়৷ তখন এই এগিয়ে চলা এদের কাছে চ্যালেঞ্জ-অ্যাডভেঞ্চার৷

তখন এদের মধ্যে দেখা যায় প্রাণোচ্ছলতা৷ অনেক সময় ভাগ্যক্রমে এরা জীবনের চলার পথে এই সুপ্ত প্রতিভার পরিচয় নিজেরাই পায়৷ তাই আমরা কেবল এদের পাশে দাঁড়াতে পারি৷ আসুন না, মেন্টর না হয়ে আমরা ওদের ভালোবাসার বিষয়টির সন্ধান করি-- আর বন্ধুর মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই৷ এতদিন আমরা শিক্ষকরা তথ্য ও জ্ঞানের পুষ্পসম্ভার ওদের হাতে তুলে দিয়েছি৷ আজ সময় এসেছে নতুন করে ভাববার৷ আমাদের দেওয়া ফুল ওদের জীবনে অচিরেই শুকিয়ে যায়৷ আসুন, আমরা ওদের হাতে তুলে দিই বীজের ভাণ্ডার৷ চিন্তার বীজ, ভাবনার বীজ ও বোধের বীজ৷ দেখবেন, ওরা নিজেরাই ফুল ফোটাবে৷ ওরা অনেকেই ফুল ফোটাতে পারে৷ ওরা ফুল ফোটায়৷ হয়তো আমাদের নজরে পড়ে না৷ তাই মিডিয়া কভারেজ পায় না৷


#ShaktipadaPatra #Chintan #PrintEdition

24 views

বিজ্ঞাপন

Valentines-day.jpg
পপুলার

718

1

মালদায় তৃণমূলে দ্রোহকাল। অম্লানের ইস্তফা, অপেক্ষায় কারা!

মালদায় তৃণমূলে দ্রোহকাল। অম্লানের ইস্তফা, অপেক্ষায় কারা!

846

2

পরাজিত প্রার্থী পেল জয়ীর কেন্দ্রের টিকিট, বিধানসভা বদল জয়ীর

পরাজিত প্রার্থী পেল জয়ীর কেন্দ্রের টিকিট, বিধানসভা বদল জয়ীর

631

3

নিখোঁজ চার কিশোরের সন্ধান পেল পুলিশ

নিখোঁজ চার কিশোরের সন্ধান পেল পুলিশ

638

4

স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদের উদ্ধার, চাঞ্চল্য ইংরেজবাজারে

স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদের উদ্ধার, চাঞ্চল্য ইংরেজবাজারে

1723

5

মালদায় পা রেখেই বিরোধী শূন্য করার হুঙ্কার ইয়াসিনের

মালদায় পা রেখেই বিরোধী শূন্য করার হুঙ্কার ইয়াসিনের
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS