বিজ্ঞাপন

শেফ: রান্না সুস্বাদু কিন্তু পেট ভরেনা!


গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে রাজা কৃষ্ণ মেননের তৃতীয় ছবি শেফ। জন ফাভরোর শেফ (২০১৪) ছবির অফিসিয়াল রিমেক এই ছবি। চাঁদনিচকে বড় হওয়া রোশন কালরা নিউইয়র্কের এক ভারতীয় রেস্তোরাঁর তিন মিসেলিন স্টার শেফ। মধ্যবয়স্ক, একটু মাথাগরম রোশন একদিন এক কাস্টমারকে ঘুষি মেরে চাকরি খুইয়ে বসে। কোচিতে রোশনের প্রাক্তন স্ত্রী রাধার সঙ্গে থাকে ছেলে আরমান। দেশে ফিরে আসে রোশন কিছুদিন ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে।


Chef

কিন্তু এই 'কিছুদিন' আর শেষ হয় না। ফ্রিজড হয়ে যাওয়া সম্পর্কগুলো তাজা হতে শুরু করে। সম্পর্কের গিঁটগুলো খুলে ডানা মেলতে শুরু করে এবং এই যে 'রিনিউড ইনটিমেসি' সেটা পরিচালক খুব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সহজ এবং স্বাভাবিক। বিশেষ করে বাবা ছেলের সম্পর্ক ভীষণ উষ্ণ। কোথাও কিছু চাপিয়ে দেওয়া নেই, ফলে সম্পর্কের রসায়নগুলো বেশ বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে এবং দর্শকের মন আর কখনও চোখকে ছুঁয়ে গেছে। বাকিটা রোশনের নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প।

শেফ একটা সদর্থক ছবি। চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যে সুন্দর পজিটিভিটি আছে। তার মানে এই নয় সম্পর্কগুলোর মধ্যে রাগ, হিংসে, দ্বন্দ্ব নেই, আছে কিন্তু সেগুলো কখনোই খুব বেশি মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে যায়নি। বেশ কিছু ব্যাপারে 'শেফ' আধুনিক, যেমন রোশন দেশে ফিরে তার প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে এসে উঠতে পারে। আধুনিক সময়ের চরিত্রগুলোর ডায়নামিক্স সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। যেটা ভাল লাগে সেটা হল ছবিটা দর্শককে বলেনা, দেখ আমি কি আধুনিক!

শেফ এর শিল্প নির্দেশনা এবং ডিটেলিং সুন্দর। এছবির যে ব্যাপারটা সবচেয়ে নজর কাড়ে তা হল নিয়ন্ত্রণ, তা সে অভিনয় হোক কিংবা লোকেশন কিংবা সংলাপ। দিল্লী তো বটেই এমনকি কোচি এবং গোয়াকেও খুব বেশি আতিশয্য ছাড়াই দেখানো হয়েছে। অথচ প্রিয়া শেঠের সিনেমাটোগ্রাফিতে জায়গাগুলো মনোরম। নিত্যদিনের যাপনে আমরা যেমন কথা বলি, এছবির সংলাপও তেমনি সাধারণ যা ছবির টোন এর সঙ্গে মানিয়ে গেছে।এটা তো আর কোনো হাইভোল্টেজ অ্যাকশন ছবি অথবা সঞ্জয় বনশালির ছবি নয় যেখানে তুখোড় সব সংলাপ থাকবে।

প্রত্যেকে সুন্দর নিয়ন্ত্রিত অভিনয় করেছেন। আরবান কনফিউজড মধ্যবয়স্ক রোশন কালরার চরিত্রে সইফ ভীষণ সহজাত। সইফের রোশন একজন হিরো নয় যে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, রোশন অনেক দোষ নিয়ে গড়া তালগোল পাকানো একজন মানুষ যে স্বামী এবং বাবা হিসেবে ব্যর্থ। মধ্যবয়েসে এসে জীবনের ছিঁড়ে যাওয়া তারগুলো জুড়ে নিতে চাইছে। রোশন কালরা সইফের অন্যতম সেরা কাজ। ছবির একটা ছোট্ট চরিত্রে যখন কাঁচাপাকা চুলের অদ্ভুত সুদর্শন মিলিন্দ সোমান এসে হাজির হয়, একবার মনে হল এবার সইফ ফিকে হতে শুরু করবে, কিন্তু না, মিলিন্দের রিফাইন্ড উপস্থিতিতেও সইফের জন্য দর্শকের সহানুভূতি এবং সমর্থন টাল খায়নি। আরবানের চরিত্রে নবাগত স্বর, রাধার চরিত্রে পদ্মপ্রিয়া এবং চন্দন রায় সান্যাল সমবেত ভাবে রিফ্রেশিং। দীনেশ নায়ার দেরিতে এসেও তাঁর উপস্থিতি জানান দেন।

শেফকে টেনে নামিয়েছে ছবির অলস গতি। উপকরণ খুব বেশি না থাকায় ছবিটা দীর্ঘায়ত হয়েছে। পরিচালক রাজা কৃষ্ণ মেনন খুব সততার সঙ্গে ছবিটি বানিয়েছেন। আর এখানেই হতাশা আসে কারণ সবমিলে ছবিটা খিদে বাড়িয়ে দেয় অথচ পাতে সেভাবে খাবার পড়ে না! 'শেফ' সেভাবে ফুডপর্ণ-ও হয়ে উঠতে পারেনি। দিল্লি থেকে কেরালার বৈচিত্র্যে ভরা খাওয়াদাওয়া তুলে ধরা হয়েছে- কখনও ছোলা বাটোরা, কখনও ইডিয়াপ্পমস আবার কখনও রোৎজা (রুটি আর পিৎজার মিশ্রণ) কিন্তু ফুড সেই অর্থে মেটাফর অথবা থেরাপি হয়ে উঠতে ব্যর্থ। ফুড এবং ফ্যামিলিকে ফোকাস রেখে যে রোড ট্রিপ সেটাও আরও একটু উপভোগ্য করা যেত। শেফ এর আরেক দোষের জায়গা হল ছবির হাফ বেকড ক্লাইমাক্স।

'শেফ'-এর রান্না সুস্বাদু, মুখে চোখে রুচি আনে, কিন্তু এতকিছুর পরেও পেট ভরে না। তবুও শেফ শেষঅবদি উপভোগ্য ফিলগুড স্লাইস অব লাইফ ছবি। সহজ এবং বুদ্ধিদীপ্ত। আমার রেটিং পাঁচে তিন।

মুভি পোস্টার সৌজন্যে বলিউড হাঙ্গামা ডট কম


#Chef

23 views

বিজ্ঞাপন

MGH-Advt.jpg
পপুলার
1

মহানন্দা ব্রিজ মেরামতির কাজ শুরু, বন্ধ বড়ো গাড়ির যাতায়াত

মহানন্দা ব্রিজ মেরামতির কাজ শুরু, বন্ধ বড়ো গাড়ির যাতায়াত
2

মেডিকেল কলেজে রক্তের দালালচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

মেডিকেল কলেজে রক্তের দালালচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
3

শহরের নিকাশি নালা পরিষ্কারে উচ্ছেদ অভিযান

শহরের নিকাশি নালা পরিষ্কারে উচ্ছেদ অভিযান
4

মালদার কান্ডারণ থেকে উদ্ধার বিরল পাইথন ও কিং-কোবরা