বিজ্ঞাপন

চার—গা ছমছমে এক্সপিরিয়েন্স



সত্যি সত্যি ভূতের দেখা পেয়েছেন, এমন ভাগ্যবান মানুষ ক’জন আছেন জানি না, কিন্তু ভূতের গল্প শুনতে ভালো লাগে না, এমন মানুষ বোধহয় একজনও নেই৷ ভূতচতুর্দশী বলুন বা হ্যালোইন-- কালীপুজোর মরশুম কি ভূতের গল্প ছাড়া জমে? চারটে গা ছমছমে এক্সপিরিয়েন্স নিয়ে হাজির মোনালি চ্যাটার্জি

পাপি লোকের হাড়

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি ছোট্ট গ্রাম, নাম মানা৷ সেখানেই এক সাধক মাতৃসাধনায় মত্ত৷ মায়ের আশিস পেতে চার বন্ধু পৌঁছে যায় সেই সাধকের কাছে৷ তখন তিনি আরতি করছেন৷ কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে একমনে মাকে ডেকে যাচ্ছেন তিনি৷ হঠাৎ সেই চার বন্ধুদের মধ্যে একজন দেখতে পান মৃত মানুষের শরীরের হাড় দিয়ে কাঁসর বাজাচ্ছেন সাধক৷ চার বন্ধু এরূপ কিছু দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না৷ কিন্তু কীভাবে যেন তাদের মনে চলা এই দ্বন্দ্ব বুঝে গেলেন সেই সাধক৷ প্রশ্ন না করতেই উত্তর আসে, এক পাপি লোকের হাড় এটি৷ মৃত্যুর আগে নিজের শরীরের হাড় দিয়ে এভাবেই কাঁসর বাজিয়ে মা-র আরাধনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি৷

গল্পটি শুনে কেউই বিশ্বাস করতে চাননি সেদিন৷ তাঁরা ভেবে নিয়েছিলেন, কোনো ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই এই মনগড়া কাহিনি৷ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাতে সাধকের সাথে থাকার কথা ভাবে চারজন৷ সাধক তাঁদের বারণ করলেও শোনেননি তাঁরা৷ শেষমেশ রাজি হয়ে তাদের হাতে একটি সুতো বেঁধে দেন সেই সাধক৷ রাতে একটি সিঁদুর মাখানো মানুষের করোটি যা কিনা ভৈরব, আর একটি দেবী ভৈরবীর মূর্তি খচিত একটি পান্না নিয়ে সাধনায় মত্ত ছিলেন সাধক৷ চার বন্ধু তখন সেখানে উপস্থিত৷ বসে পড়েন ধ্যানে তাঁরাও৷ হঠাৎ সেই পান্না ও করোটি শূন্যে উঠে যায়৷ সাধক তখন ধ্যানমগ্ন, বাকিরা ভীতসন্ত্রস্ত৷ এমন সময় এই করোটি ও পান্না থেকে নিঃসরিত হয় আলোর ছটা৷ কিছু সময় পর এক বন্ধু চোখ খোলে৷ দেখে সে তার নিজের জায়গা থেকে দশহাত দূরে পড়ে আছে৷ বাকিরাও তাই৷ সাধক তখনও ধ্যানমগ্ন৷ কিন্তু এক অদ্ভুত জিনিস, ভৈরবী দেবীর মূর্তি খচিত পান্না আর নেই৷ (গল্পটি বলেছেন অনির্বাণ আচার্য)

বৃদ্ধার ডাক

শীতের রাত৷ প্রাইভেট টিউশন পড়ে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফেরার পালা৷ শহরের ভিড় যানজট এড়াতে ছোটো রাস্তাগুলো দিয়েই হাঁটতে পছন্দ করে অনিপ্রিয়া৷ সেদিনও একইভাবে কানে হেডফোন গুঁজে হাঁটছিল সে৷ হঠাৎ তার মনে হয় কে যেন পেছন থেকে তাকে ডাকছে৷ প্রথমে তার মনে হয়, এত জোড়ে গান চলছে, কারোর কথা শোনার কথা নয়, তবুও সে পেছনে ঘুরে তাকায়, দেখে কেউ নেই৷ সামনের দিকে ঘুরে নিজের রাস্তায় হাঁটতে যাবে, এমন সময় আবার একই ডাক৷ মনে হচ্ছে যেন এক বৃদ্ধা যন্ত্রণায় ছটফট করছে৷ পিছন ফিরতেই দেখে, আবার কেউ নেই৷ কিছু বুঝতে না পেরে হাঁটতে থাকে৷ সেদিন শীতটা হয়তো একটু বেশিই ছিল৷ চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ন৷ রাস্তায় কোনো জনপ্রাণী নেই৷ শুধু কুকুরগুলোর ডাক শোনা যাচ্ছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে না৷ এমন সময় অনিপ্রিয়ার সাথে দেখা হয় এক বৃদ্ধার৷ পুরো মুখ দেখা যাচ্ছে না৷ একটি সাদা শাড়ি পবে একটু দূরে দাঁড়িয়ে৷ এত শীতে একটি সুতির শাড়ি পরে থাকতে দেখে কষ্ট হয় অনির৷ সে মনে করে, বৃদ্ধার হয়তো সাহায্যের প্রয়োজন৷ বৃদ্ধার দিকে এগিয়ে যেতেই হকচকিয়ে যায় সে৷ বৃদ্ধার কোমর থেকে পা অবধি শাড়ির বেশিরভাগটাই রক্তাক্ত৷ আর তার এক পা হাতে ধরে দাঁড়িয়ে৷ ভয়ে অনি উলটো দিকে দৌড়তে শুরু করে৷ শর্টকাট রাস্তা ছেড়ে বড়ো রাস্তা দিয়েই ছুটতে ছুটতে বাড়ি পৌঁছায় অনি৷ (গল্পটি বলেছেন, অনিপ্রিয়া চ্যাটার্জি)

রাম নামে কাজ হয়?

১৯৮০ সাল৷ শহর কলকাতায় চাকরি করেন রতনবাবু৷ দুর্গাপুজোতে ছুটি না পেলেও কালীপুজোয় পেয়েছেন৷ মনের আনন্দে চলেছেন বাড়ির দিকে৷ কলকাতা থেকে ট্রেনে করে মালদায় পৌঁছালেন৷ শহরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গেলেন ঘোড়াগাড়িতে৷ এরপরেই গ্রামের কাঁচা রাস্তা৷ চোর-ডাকাতের ভয়ে কেউই রাত ১০টার পর ওই রাস্তায় যেতে চায় না৷ তার ওপর কালীপুজোর অমাবস্যার রাত৷ ছোটো থেকেই গ্রামের ওই রাস্তায় ভূতের তাণ্ডব শুনে আসছেন রতনবাবু৷ তিনি সেই রাস্তায় যখন পৌঁছালেন ঘড়িতে দেখাচ্ছে তিনটে৷ আতঙ্ক হলেও বাড়ি ফেরার আনন্দে মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন৷ হঠাৎ রতনবাবুর চোখে এল সাদা কাপড়ের আড়ালে কোনো মহিলা উঁকি মারছে৷ পরক্ষণেই বুঝতে পারলেন ভুল দেখলেন৷ ঠিক দু-পা এগোতেই আবার একই দৃশ্য৷ তবে এবার স্পষ্ট৷ সাদা শাড়ির আড়ালে কেউ যে আছে তা বোঝা যাচ্ছে৷ মহিলাটিকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করতেই চক্ষুচড়কগাছ৷ মাটি থেকে দেড় ফুট উচুঁতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ওই মহিলা৷ হার্টবিট বাড়তে বাড়তে চারশো ছুঁইছুঁই৷ তবু বাড়িতো যেতেই হবে৷ মনে মনে রাম নাম জপ করতে করতে এক পা, দু পা করে এগিয়ে চললেন৷ রতনবাবু দেখছেন তিনি যত এগোচ্ছেন ততই যেন দূরে সরে যাচ্ছে ওই মহিলা৷ তাঁর মনে সাহস এল খানিকটা হলেও৷ রাম নামে কাজ হয়েছে৷ ছুটলেন ওই মহিলার পেছনে৷ মিনিট তিনেক ছুটেই ধরে ফেললেন মহিলাকে৷ দেখলেন তাঁর প্রতিবেশী এক মহিলা৷ প্রাতঃকৃত্য সাড়তে এসে রতনবাবুকে দেখে লজ্জায় শাড়ি তুলে পালাচ্ছিলেন তিনি৷ (গল্পটি বলেছেন, অরিন্দম বাগ)

কাকভোরে

পুজোর ছুটি পড়ে গেছে৷ তিন বছর সুনেত্রা নিজের বাড়ি যায়নি৷ ঠিক করেছে এবছর সে নিজের ভাই-বোনদের সাথে পুজো কাটাবে৷ পুজোর শুরু হতে মাত্র কটা দিন বাকি৷ সুনেত্রা তখন নিজের বাড়ি কামারপুকুরে৷ সারাদিন ট্রেন ও বাস জার্নিতে ভীষণ ধকল গেছে৷ রাতে বাড়ি ফিরে রাতের খাবার খেয়ে শুতে যায়৷ নেটওয়ার্ক না থাকায় ফেসবুকেও উঁকি মারা হয়নি তার৷ তাই শুয়ে পড়ে৷ কাকভোরে আচমকা ঘুম ভেঙে যায় তার৷ বুঝতে পারে, সে ঘুমের ঘোরে কারোর সাথে অনর্গল কথা বলেছে৷ প্রথমে ভাবে, হয়তো কোনো স্বপ্ন দেখেছে৷ কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা নয়, স্পষ্ট বুঝতে পারে তখনও কেউ কথা বলছে, তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে৷ অনেকবার একই প্রশ্ন কানে ভেসে আসে তার৷ ভয় পেয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে চেষ্টা করলেও সে পারে না৷ তার হাত-পা যেন কেউ বেঁধে রেখেছে৷ কেউ যেন তার গলা টিপছে৷ কিন্তু কিচ্ছু করতে পারেনি সুনেত্রা৷

ওর গ্রামের বাড়ির পাশেই ছিল একটি মন্দির৷ ভোর হলেই সেখানে শুরু হয় কীর্তন৷ কীর্তন শুরু হতেই যেন তার হাত-পায়ের বাঁধন আলগা হতে শুরু করে৷ গলার উপর থেকে চাপ যেন কমে যায়৷ একটু ঠিক হতেই সে নীচে দৌড়ে যায়৷ ঘড়িতে তখন চারটা বেজে বারো মিনিট৷ বাড়ির সকলকে এই ঘটনার কথা জানালে বিশ্বাস করতে চায়নি কেউই৷ সবাই ভাবে, মেয়ে হয়তো কোনো বাজে স্বপ্ন দেখেছে৷ কিন্তু একটা প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়, হয়তো এটি একটি স্বপ্ন, তাহলে হাতে ও পায়ের সেই দাগগুলো! (গল্পটি বলেছেন, সুনেত্রা ব্যানার্জি)

#PrintEdition

বিজ্ঞাপন

Malda Guinea House.jpg

পপুলার

1

মানিকচকে গঙ্গায় ডুবল ভেসেল, সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজ

Popular News

619

মানিকচকে গঙ্গায় ডুবল ভেসেল, সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজ
2

সুজাপুরে বিস্ফোরণস্থলে এলেন ফিরহাদ হাকিম, আসছে ফরেনসিক দল

Popular News

700

সুজাপুরে বিস্ফোরণস্থলে এলেন ফিরহাদ হাকিম, আসছে ফরেনসিক দল
3

তীব্র বিস্ফোরণ সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায়

Popular News

1300

তীব্র বিস্ফোরণ সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায়
4

দোকানে হানা, মাদক বিক্রেতাদের কঠোর বার্তা পুলিশের

Popular News

544

দোকানে হানা, মাদক বিক্রেতাদের কঠোর বার্তা পুলিশের
5

সংক্রমণ রুখতে এবার বন্ধ গোবরজনায় কালীপুজোর মেলা

Popular News

755

সংক্রমণ রুখতে এবার বন্ধ গোবরজনায় কালীপুজোর মেলা
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট
কমেন্ট করুন
 

aamadermalda.in

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS