ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাফল্য নজর কেড়েছে ইউনিসেফেরও

ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নজর কেড়েছে ইউনিসেফের

মালদার প্রত্যন্ত এলাকার ভূতনি চরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রোলমডেল হতে চলেছে গোটা বিশ্বের। ইউনিসেফের হাত ধরে সেই মডেল বিশ্বের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছে যেতে চলেছে। সেই উদ্দেশ্যে এদিন ভূতনি চরের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করা হয়। অত দুর্গম এলাকায় কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে বিপুল সাফল্য এল তা জানার চেষ্টা করেন ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা। পরে তারা জানান, মানিকচকের ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই সাফল্য তাঁরা ইউনিসেফের রোল মডেল হিসেবে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চান।



মালদার প্রত্যন্ত এলাকার ভূতনি চরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রোলমডেল হতে চলেছে গোটা বিশ্বের। ইউনিসেফের হাত ধরে সেই মডেল বিশ্বের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছে যেতে চলেছে।

উল্লেখ্য, মানিকচক ব্লকে গঙ্গা ও ফুলহর নদী দিয়ে ঘেরা ভূতনি চর। সেখানে বসবাস করেন লক্ষাধিক মানুষ। তাঁদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল আগেই। কিন্তু তা নামেই ছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেখানে না ছিল স্থায়ী চিকিৎসক, না ছিল স্বাস্থ্যকর্মী। ফলে চরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোনো তিমিরেই থেকে গিয়েছিল। এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তেন প্রসুতিরা। প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে স্থল ও নদীপথে কয়েক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে রাস্তাতেই প্রসব হয়ে যেত অনেক প্রসুতির। বেশ কিছু প্রসুতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বিলম্বিত স্বাস্থ্য পরিষেবার কারণে। যার ফলে চর এলাকায় গ্রাম্য ধাইদের কারবার রমরমিয়ে চলতে থাকে। অপ্রশিক্ষিত এই ধাইদের হাতেও অনেক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে।

প্রসুতিদের এই সমস্যার কথা চিন্তা করেই গত নভেম্বরে ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নত করে প্রশাসন। সেখানে ১০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। নিয়োগ করা হয় ২ জন স্থায়ী চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মী। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অপারেশন থিয়েটরও তৈরি হয়। এরপর চরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের সুবিধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝান প্রশাসনিক লোকজন। তার ফলও মেলে হাতেনাতে। বর্তমানে প্রতি মাসে সেখানে ১০০টিরও বেশি প্রসব হচ্ছে বলে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই সাফল্য নজর কাড়ে ইউনিসেফেরও।

এদিন ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান জরু মাস্টার ও সুরেশ ঠাকুর। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের পর তাঁরা জানান, প্রত্যন্ত ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই মডেল উন্নয়নশীল দেশগুলিতেও পৌঁছে দিতে চায় ইউনিসেফ। এদিন তাঁরা সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেছেন। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও কথা বলেছেন গ্রামবাসীদের সঙ্গে। সব কিছু দেখে তাঁরা অভিভূত। সবাই একযোগে কাজ করার জন্যই এই অসাধ্যসাধন সম্ভব হয়েছে। তাঁরা ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই রিপোর্ট নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেবেন।

এদিন ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দিলীপকুমার মণ্ডল, মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়দীপ মজুমদার সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারাও।

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.