কারখানার দূষিত জলে বেহুলা বিষাক্ত, রোগের প্রাদুর্ভাব এলাকায়

মালদা জেলায় বন্যার জল নামা শুরু করতেই দেখা দিয়েছে নানান রোগের প্রাদুর্ভাব। পুরাতন মালদা ব্লকের প্রায় দশটি গ্রামের একাধিক শিশু সহ মানুষ এখন নানান রোগে আক্রান্ত। বিশেষ করে বেহুলা নদী বর্তমানে বিষাক্ত। কারখানার নোংরা জল মিশে বেহুলা নদীকে করেছে বিষাক্ত। ব্লক প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ বেহুলা নদী সংলগ্ন গ্রামগুলির গ্রামবাসীদের। স্বভাবতই ক্ষোভ জন্মেছে এলাকাবাসীর অধিবাসীদের মধ্যে। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে এই রোগ মহামারীর রূপ নেবে তা ভেবেই আতঙ্কিত এলাকাবাসীরা।

পুরাতন মালদা ব্লকের নারায়নপুর এলাকায় অবস্থিত রয়েছে একাধিক নামি কোম্পানির কারখানা। হরলিক্সের স্টার্চ, সিল্ক, অ্যালুমিনিয়াম সহ বিভিন্ন কারখানার বিষাক্ত জল বেরিয়ে মিশছে বেহুলা নদীতে। বেহুলার জলে জলমগ্ন হয়েছে পুরাতন মালদা ব্লকের জলঙ্গা, নিমতলী, শিমুলতলা, নোলহাট্টা, মৌলপুর ও মাধায়পুর সহ প্রায় দশটি গ্রাম। বন্যায় সর্বত্র প্লাবিত হওয়ায় বেহুলার জল অতিক্রম করেই চলছে এলাকাবাসীদের যাতায়াত। এই বেহুলার জলে স্নান করে এলাকাবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ঘা, চুলকানি সহ বিভিন্ন চর্মরোগ। এই বিষাক্ত জলে মারা যাচ্ছে নদী ও পুকুরের মাছ। বন্যার ফলে ক্ষতি হয়েছে চাষবাসের। অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত এলাকায় পৌঁছায়নি কোনো মেডিক্যাল টিম। সব মিলিয়ে পুরাতন মালদা ব্লকের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই বেহুলার বিষাক্ত জলে আক্রান্ত। এই সমস্যা দূর করার জন্য ইতিমধ্যেই ব্লক ও প্রশাসনকে জানিয়েছে এলাকাবাসী। একই অভিযোগ তুলেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন সমাজসেবীরা। তবে এই অভিযোগ নিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন কারখানার মালিক পক্ষ।


কারখানার নোংরা জল মিশে বেহুলা নদীকে করেছে বিষাক্ত।

এলাবাসীদের অভিযোগ এই সমস্যা নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন জর্জরিত। এই এলাকাগুলির বেশির ভাগ মানুষই চাষবাস ও দিনমজুরী করে জীবনধারণ করে। বেহুলার বিষাক্ত জলে চর্মরোগ সহ নানান রোগ নতুন করে দেখা দিয়েছে। তাই বন্যার জল সরে যাওয়ার পর তাঁরা কারখানার বিষাক্ত জল বেহুলা থেকে সরিয়ে রাখতে বাঁধ দিতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। অবিলম্বে তাঁরা এই সমস্যার সমাধান চেয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পুরাতন মালদার কংগ্রেস বিধায়ক অর্জুন হালদার গ্রামবাসীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন এবারের বন্যা এলাকার মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে। বেহুলার জলে কারখানার দূষিত জল মিশে দূষণ করেছে। কারখানার নোংরা জল আর নদীতে ফেলা যাবে না। এলাকায় এখন অনেক মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। এমন নদীর জল যা কোনো কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এমনকি মাছ চাষও সম্ভব নয়। জমির সেচের ক্ষেত্রেও ব্যবহার সম্ভব নয় এই জল। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ঘোষণা করেন সকল দলকে সাথে নিয়ে মানুষের সমস্যা দূর করতে ব্লক ও প্রশাসন সহ জেলাপ্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সমস্যা খুব শীঘ্রই দূর করার চেষ্টা করবেন। যদিওপুরাতন মালদা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক নরোত্তম বিশ্বাস জানান, এমন ঘটনা তাঁর জানা নেই। মেডিক্যাল টিম এলাকাগুলিতে চিকিৎসা পরিসেবা দিচ্ছে। ঘটনা খতিয়ে দেখে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

1
রাতে 'কুপিয়ে' খুন হলেন দু’জন, মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী

Popular News

759

2
কফিনবন্দি দেহ ফিরল মালদায়, স্যালুট জানিয়ে শেষ শ্রদ্ধা পুলিশের

Popular News

889

3
গঙ্গায় মিশে যেতে পারে ফুলহর, বাজছে বিপদ ঘণ্টা

Popular News

845

4
আত্মীয়ের বাড়িতে এসে গ্রেফতার বাংলাদেশি

Popular News

1324

5
বাংলাদেশে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিলেন মহদীপুরের এক্সপোর্টার্সরা

Popular News

897

পপুলার

বিজ্ঞাপন

টাটকা আপডেট
 

aamadermalda.in

আমাদের মালদা

সাবস্ক্রিপশন

যোগাযোগ

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS