ফাঁকা অক্সিজেনের নল রোগীর নাকে লাগাতে অস্বীকার স্বাস্থ্যকর্মীর

ফাঁকা অক্সিজেনের নল রোগীর নাকে লাগাতে অস্বীকার স্বাস্থ্যকর্মীর

নার্সের আদেশ ছিল ফাঁকা অক্সিজেন সিলিন্ডারের নলই রোগীর নাকে লাগিয়ে দেওয়ার। নার্সের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অন্যায় কাজ করতে রাজি হননি এক জিডিএ (জেনারেল ডিউটি অ্যাসিস্যান্ট)। অভিযোগ জানাতে চলে যান ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে। তাতে আরো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। নার্সের নির্দেশ মেনে কাজ না করলে মারধর, এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকি পর্যন্ত হজম করতে হয় তাঁকে। তাতেও দমন করা যায়নি ওই জিডিএ কর্মীকে। এরপর তিনি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে লিখিতভাবে সমস্ত ঘটনা জানান।

প্রতিবাদী ওই স্বাস্থ্যকর্মীর নাম রঞ্জিত দাস। বামনগোলা ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হরিপাল গ্রামে তাঁর বসবাস। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি জিডিএ কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বামনগোলা ব্লকের কাশিমপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত। ১৫ দিনের জন্য তাঁকে বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে যোগদানের দিন দুয়েক পরই ঘটে অঘটন।


নার্সের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অন্যায় কাজ করতে রাজি হননি এক জিডিএ

রঞ্জিতবাবুর অভিযোগ, সেদিন তাঁর ডিউটি ছিল সকালে৷ তিনি নির্দিষ্ট সময়েই হাসপাতালে উপস্থিত হন৷ সকাল ৮টা নাগাদ এক আশঙ্কাজনক রোগীকে অক্সিজেন ও নেবুলাইজার লাগানোর নির্দেশ দেন কর্তব্যরত নার্স৷ তিনি গোটা হাসপাতাল খুঁজে দেখেন, অক্সিজেন কোনও সিলিন্ডারে নেই৷ সেকথা তিনি নার্সকে জানান৷ নার্স তাঁকে নির্দেশ দেন, খালি সিলিন্ডারের পাইপ তিনি যেন রোগীর নাকে লাগিয়ে রাখেন৷ তিনি এই অন্যায় কাজ করতে রাজি হননি৷ সেই সময় ওই হাসপাতালের অন ডিউটি চিকিৎসক ছিলেন বিএমওএইচ৷ তাঁকে হাসপাতালে না পেয়ে তিনি তাঁর কোয়ার্টারে যান৷ সেই সময় বিএমওএইচ তাঁর চেম্বারে রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন৷ তার মধ্যেও তিনি তাঁকে সব ঘটনা খুলে বলেন৷ বিএমওএইচও তাঁকে নার্সের কথামতো রোগীর নাকে খালি পাইপ লাগিয়ে রাখতে বলেন৷ তিনি প্রতিবাদ করলে বিএমওএইচ তাঁকে সাসপেন্ড করার হুমকি দেন ও তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন৷ তিনি হাসপাতালে ফিরে যান৷ নার্স তাঁকে লেবার রুম থেকে সিলিন্ডার আনতে বলেন৷ কিন্তু তখন লেবার রুমে এক গর্ভবতীর প্রসব চলছিল বলে তিনি সেখানে যেতে চাননি৷ খানিক পরেই কিছু লোকজন নিয়ে হাসপাতালে আসেন বিএমওএইচ৷ তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে তাঁকে বলে, তাতে অক্সিজেন রয়েছে৷ কিন্তু তিনি অনেক আগেই ওই সিলিন্ডার পরীক্ষা করে দেখেছিলেন, তাতে অক্সিজেন নেই৷ সেকথা তিনি জানালে বিএমওএইচ ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে মারতে উদ্যত হন৷ বিএমওএইচ তাঁকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন৷ প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন৷

সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের ভয় থাকা সত্বেও রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে চাননি রঞ্জিতবাবু৷ গোটা ঘটনা বামনগোলার বিডিওকে লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি তিনি চলে আসেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে৷ জেলার প্রধান স্বাস্থ্যকর্তাকে খুলে বলেন সব কথা৷ রঞ্জিতবাবু জানেন না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে কিনা৷ সেই আশঙ্কা নিয়েই তিনি মালদা থেকে বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে ফিরে গিয়েছেন৷

এই ঘটনা নিয়ে যোগাযোগ করা যায়নি বিএমওএইচ অর্ণব সরকারের সঙ্গে৷ ফোন বেজে গেলেও তিনি তা ধরেননি৷ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৈয়দ শাহজাহান সিরাজেরও কেমন যেন গা ছাড়া মনোভাব৷ তিনি বলেন, ওই কর্মী তাঁর সঙ্গে দেখা করে সব কথা বলেছেন৷ তিনি তাঁকে লিখিত অভিযোগপত্র তাঁর দপ্তরে জমা দিতে বলেছেন৷ ইতিমধ্যেই তিনি এই ঘটনা নিয়ে সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তবে ওই কর্মীকে হুমকি দেওয়ার বিষয় তাঁর জানা নেই বলেও জানান তিনি৷

ছবিটি প্রতীকী।

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.