অনিশ্চিত ভবিষ্যতে দার্জিলিং

দার্জিলিং এখন আর হাসে না৷ পাহাড়ের রানির এখন বড্ড দুঃখ৷ শুনসান পাহাড়ি পথে পাইনের জঙ্গলে শোঁ শোঁ হাওয়ার আওয়াজ এখন খুব বেশি শোনা যায়৷


মাঝে কটা বছর একটু মোটাসোটা হয়েছিল পাহাড়ি মেয়ে৷ শৈলরানির মধুচন্দ্রিমা পর্ব শেষ হতে এখন তার গায়ে ফের বারুদের গন্ধ, রক্তের ছোপ৷

চলতি শতকের প্রথম দশক৷ রাজ্যের শাসক জোট তখন বামফ্রন্ট৷ দশকের শেষের দিকের কয়েকটা বছর বামফ্রন্ট আর পাহাড়ের শাসক গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে সাপ-নেউলে সম্পর্ক৷ বামফ্রন্টের নেতা, মন্ত্রীরা, জোটের প্রধান শরিক সিপিএমের নেতারা পাহাড়ে ওঠেন না৷ আলাদা রাজ্যের দাবিতে পাহাড়ের আন্দোলন তুঙ্গে৷ তখন মোর্চা নেতারা আশ্রয় খুঁজেছিলেন তৎকালীন বিরোধী তথা আজকের রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে৷ আশ্রয় পেয়েছিলেন, পেয়েছিলেন প্রশ্রয়ও৷ গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) গঠন করেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে বামফ্রন্ট আগে যা পারেনি, তিনি তাই করেছেন৷ পাহাড় এখন হাসছে৷ কিন্তু একই সঙ্গে তিনিও বিষবৃক্ষের বীজেই জল ঢেলেছেন তা বোঝেননি৷

পাহাড়ের এই আন্দোলনের প্রকৃত রূপ কী, তা নিয়ে তর্ক থাকতেই পারে, থাকবেও৷ কারো মতে এটা বিচ্ছিন্নতাবাদী, কারো মতে সুবিধাবাদী আবার কারো মতে জাতিসত্ত্বার অস্তিত্বের লড়াই৷ সে যাই হোক না কেন, রাজ্যের এবং কেন্দ্রের কোনো সরকারই যে দার্জিলিং পাহাড় এবং তার বাসিন্দাদের নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবেনি এবং ভাবে না তার প্রমাণ বারেবারে পাওয়া গিয়েছে৷ দার্জিলিং-এ এমন কোনো ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেছে যে সেখানে সেনা জওয়ানদের পাঠানো হবে? দার্জিলিং আর কাশ্মীরের পরিস্থিতি যে রাজনীতিক এক করে দেখতে পারেন তাঁর রাজনৈতিক বোধ নিয়ে বড্ড বেশি সংশয় থাকাটাই স্বাভাবিক৷ সেখানকার মানুষের, সেখানকার ভূমিপুত্রের স্পর্শকাতরতায় দাম কি জনা কয়েক মন্ত্রীর চেয়ে অনেক কম? গত কয়েক বছরে রাজ্যের শাসকদল পাহাড়কে পড়তে যে ভুল করেছেন, বর্তমান শাসকদলও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়৷ যখনই কোনো বিরুদ্ধ মতের জন্ম হয়, তখনই তার মন্ত্রী শক্রশিবিরে চলে গেল এহেন রাজনৈতিক দর্শন মোটেই রাজধর্ম পালনের উপযুক্ত নয়৷

দার্জিলিং নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত, পর্যবেক্ষণ আজ পাহাড়কে এই অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ জিটিএ-কে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তার কী কী কাজ হয়েছে, প্রতি বছর তার অডিট হয়নি কেন বা প্রতিবছর তার পাই পয়সা বুঝে নেওয়া হয়নি কেন- এই প্রশ্ন এখন তোলা যেতেই পারে৷ যখনই মোর্চা নেতারা শত্রুতার পথে হাঁটলেন তখনই কেন বিশেষ অডিট হবে? তার আগে কেন নয়? যে অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তা তো জনগণের করের টাকা৷ দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তো সরকারের ক্ষেত্রেও ওঠে৷ মোর্চা নেতারা আজ জিটিএ ছেড়ে ফের রাস্তায় নেমেছেন আলাদা রাজ্যের দাবিতে৷ এমন যে একটা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে হওয়া অস্বাভাবিক মোটেই নয়- তা কি ২০১১ সালে ভাবা যায়নি? নাকি পাহাড়ের মেকি হাসিতে উদ্বেল হয়ে চৈতন্য মহাপ্রভু হয়ে গিয়েছিলেন সবাই৷ জাতিসত্ত্বার আন্দোলনে একবার নামিয়ে দিলে, সেখান থেকে ফিরে আসার সাধ্য কারও নেই৷ এই উদাহরণ ভারতেই রয়েছে ভুরিভুরি৷ সিংহের পিঠে যত সহজে বসা যায় নামা তার শতগুণ কঠিন৷ মোর্চা নেতারা যেমন সিংহের পিঠে চড়েছেন, হিংসার আঁচে পুড়তে হবে সবাইকেই৷ ছেঁদো সেন্টিমেন্টের ঝোলা রাস্তাতেই ফেলে দিতে হবে৷ কারণ পাহাড় আগের চেয়েও বেশি উত্তাল হবে ভবিষ্যতে - এটাই পাহাড়ের গায়ের লিখন৷

ছবিঃ সাগ্নিক সোম


#NorthBengal #RamanujMitra #DigitalDesk #SagnikSom #State

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.