বিজ্ঞাপন

ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ

সকলেই তো পড়ছেন, 'অসির চেয়ে মসি বড়ো'! পড়েছেন, রচনা লিখেছেন। তারপর স্বাভাবিকভাবে ভুলেও গিয়েছেন। ক্ষমতার সমাজ-রাজনীতিতে অস্ত্রের জোরই বেশি। কলম নয় তরোয়ালই হয়ে উঠেছে সর্বশক্তিমান। রামনবমীর মহাধুমধামের পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গণমাধ্যম সর্বত্রই একই ছবি আবর্তিত হচ্ছে। সাদা সালোয়ার কামিজে ছাত্রীদের কপালে রক্তচন্দন। কোমরে গেরুয়া ওড়না। হাতে খোলা তরবারি। ধারালো অস্ত্র শিশু-কিশোরদের হাতে। শক্তির এহেন প্রদর্শন বন্ধ করতে চাইলে আশু সংস্কার জরুরি।



ভারত বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ, কথাটি রাজনীতি ভুলে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রতিটি সংস্কৃতির একটি নিজস্ব ধরন আছে। ভারতীয়দের সেই নিজস্বশৈলী হল হেটারোজেনেসিটি অর্থাৎ বহুত্ববাদ বা অসমসত্ত্বীকরণ। আমাদের সংস্কৃতি হল সেই ক্যালাইডোস্কোপ, যাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নানা রঙের নকশা তৈরি হয়। কোথাও কোনো মিল নেই কিন্তু সামগ্রিকভাবে সুন্দর ও সুষম। তাই রাজনীতি থেকে সমাজসংস্কৃতি কোথাও কোনো ছাঁচে ফেলে দেওয়া কাঠামো কখনওই এখানে স্থান পায়নি। মুঘল যুগেও সমাজ সংস্কৃতিতে কোনো আদল তৈরির চেষ্টা করেননি কোনো শাসক। দোর্দণ্ডপ্রতাপ মৌর্য সাম্রাজ্যবাদের পাশেই থেকে গিয়েছে উপজাতীয় প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা। চোলেদের রমরমা অবস্থাতেও গ্রামীণ শাসক চলেছে তার নিজস্ব ছন্দে। ধর্মীয় উৎসব বরাবরই ছিল এই সমাজ সংস্কৃতির অঙ্গ। সেখানেও তাই শতপুষ্প বিকশিত হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় 'দাফালি' বা ব্যালাড-গায়কেরা গাজি মিয়ার বিভিন্ন কিস্‌সা অর্থাৎ মাহাত্ম্যবর্ণনা করে বেড়ায় তার সাথে কৃষ্ণকথার অনেক মিল। একটা কাহিনি যেমন বলছে, বিয়ের দিন সকালে গাজি সালার মাসুদ যখন স্নান-টান সেরে বর-বেশে সাজছেন, তখন যে মহিলা এসে খবর দেন, সোহেল রাজা, মসুদের গোরু আর গো-পালকদের আটকে রেখেছে, তার নাম যশোয়া গোয়ালিনী (যশোদা মা?)। গোরু আর আহিরদের উদ্ধার করে গাজি মিয়াঁ যখন গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন, তখনই একটা তির এসে তাঁর হৃৎপিণ্ড ফুড়ে দেয়। মহাভারতের কৃষ্ণের মৃত্যুদৃশ্যের সাথে অনেকটা মিলে গেল, তাই না? সংখ্যাগুরুদের সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্ব বাইরে থেকে বিভাজনের যতই চেষ্টা করুক - ভারতের হাজার বছরের হিন্দু-মুসলিম মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গতিপথ তাদের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

ধর্মোৎসব' নামে বিজ্ঞাপিত এই ঘটনার মধ্যে ধর্ম-সংস্কৃতি দেখতে পাওয়া একেবারে অসম্ভব। প্রকট কেবলই রাজনীতি-সংস্কৃতি। রামনবমী, অন্তত পশ্চিমবাংলায়, এক রাজনৈতিক উৎসব রূপে আত্মপ্রকাশ করল। মহরমে শোক উদযাপনের প্রথাটিকে রামনবমীর সাথে গুলিয়ে ফেলার কারণ নেই। মহরমের মিছিল ইদানীংকালে যে ভঙ্গিতে হয় তা চলতে পারে কিনা, প্রশাসনকে ভাবতে হবে। বস্তুত, যে অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের প্রথা আছে, প্রত্যেকটির রীতি ও পদ্ধতি হয়তো ফের বিবেচনা করা জরুরি। ইহাতে কোনো সন্দেহমাত্র নাই যে, ধর্মের বিকারেই গ্রিস মরিয়াছে, ধর্মের বিকারেই রোম বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমাদের দুর্গতির কারণ আমাদের ধর্মের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও নাই''। 'ধর্মের অধিকার' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই সাবধানবাণী মনে রাখতে হবে।

anidg@live.com

94 views

বিজ্ঞাপন

MGH.jpg
পপুলার
1

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬
2

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
3

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে
4

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর
5

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি
Earnbounty_300_250_0208.jpg