আ জেন্টলম্যান: না সুন্দর না সুশীল না কোনোভাবে রিস্কি!


গত শুক্রবার পরিচালকদ্বয় রাজ এবং ডিকে-র 'আ জেন্টলম্যান' ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। সঙ্গে আবার লেজুড় 'সুন্দর সুশীল রিস্কি'! ছবিটি নিয়ে বেশি কিছু বলবার আগে সোজাসুজি বলে নেওয়া ভালো, এ ছবি না সুন্দর না সুশীল না কোনোভাবে রিস্কি।



ট্রেলার থেকে বোঝা গেছে এটা অ্যাকশন ভরপুর মশালা ছবি। এরকম ছবিতে গল্প সেভাবে থাকেও না। গৌরব মায়ামিতে 'জব' করে (মায়ামির মত জায়গায় কেউ কাজ করতে যায় নাকি? সব জব!)। গৌরব ভদ্রসভ্য ছেলে। সদ্য একটা বাড়ি কিনেছে। এবার একটা নায়িকা লাগবে। মায়ামির মত আই ক্যান্ডি জায়গায় ভ্যানিলার মত নায়িকা দেওয়া হোক। ডাক পড়ল জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের, কাব্যা চরিত্রটির জন্য। কাব্যার জন্য গৌরবের মন গুড়গুড় করে। কিন্তু এখন সব কিছুতে 'মস্তি' খুঁজতে চাওয়া জেনেরেশনের এরকম নিরামিষ ছেলে ভালো লাগবে কেন বলুন! একটু রিস্কি না হলে হয়। এসে গেল ঋষি। সিক্রেট এজেন্ট। জোরে বাইক চালানো থেকে শুরু করে উঁচু ছাদ থেকে লম্ফঝম্প সব জলভাত। সঙ্গে দুই হাতে বন্দুক চালানো আর ঢিশুম ঢিশুম তো আছেই। ঋষি মানুষ মারে ঠিকই, কিন্তু নীতিবোধটা মাঝে মাঝে চাগাড় দিয়ে ওঠে। আরে বাওয়া হিরো বলে কথা!

এই গৌরব আর ঋষি দুই চরিত্রেই অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। এখানে একটা টুইস্ট আছে। সেটা আর খোলসা করছি না। ছবিটা দেখতে দেখতে বারবার মনে হবে আদৌ কোন চিত্রনাট্য আছে এ ছবির, নাকি অ্যাওই! অবশ্য পরিচালকদ্বয় ভেবে থাকতে পারেন ফক্স স্টার স্টুডিও এই ছবিতে টাকা ঢালছে, সিদ্ধার্থ অ্যাকশন করবে, জ্যাকলিন-এর সঙ্গে নাচগানা রোমান্স হবে, সুন্দর ছবির মত জায়গা থাকবে, এত কিছু দেবার পর আবার চিত্রনাট্য খোঁজো কেন বাপু! হুম হুম তা বটে, আমাদেরই ভুল।

যাইহোক ছবিকে তো কম করে সওয়া দুঘণ্টা টানতে হবে তাই মাঝে মাঝে ঢুকে পড়েছে আলটপকা নাচগানা, মামুলি কমেডি। প্রসঙ্গত, ছবির একটি গানও মনে রাখার মত দূরের কথা, হলে বসে শোনার মতও নয়। এরপর নায়ক মাঝেমাঝে সময় কাটিয়েছে মায়ামি-থাইল্যান্ড-মুম্বই-গোয়াতে। এছাড়া আক্ষরিক অর্থে টাইম পাস করতে কিছু চরিত্র সৃষ্টি হয়েছে, যেমন কর্নেল (সুনীল শেঠী), ইয়াকুব (দর্শন কুমার), দীক্ষিত (হুসেন দালাল) ইত্যাদি। সঙ্গে আবার একটা হার্ড ডিস্ক পিরিয়ড আছে, নাহলে সিক্রেট এজেন্ট এর মান যায়!

ছবির শুরুতেই দেখা যায় একজন খুব তাড়াহুড়োতে মূত্রত্যাগ করতে গিয়ে অসাবধানতায় তার গাড়ি টিকে রেখে যায়। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি পেছনে গড়াতে শুরু করে এবং যত গণ্ডগোলের শুরু এখান থেকেই। ওরকম একটা ফ্ল্যাট রাস্তায় কী করে ওভাবে গাড়ি গড়িয়ে যায় অতটা। শুরুর এই দৃশ্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে এই ছবি যত্ন নিয়ে তৈরি হয়নি। এই দৃশ্য থেকে শুরু করে ছবির শেষ অবধি এমন একটা সিকোয়েন্স নেই যেখানে আপনি শিরদাঁড়া টানটান করে বসবেন। প্রতিটা দৃশ্য ভীষণ ম্যাড়মেড়ে প্রাণহীন। পুরো প্লটে এনার্জি নেই কোথাও। মনে হবে ভীষণ ল্যাদ খেতে খেতে এই ছবি তৈরি হয়েছে। এরকম একটা অ্যাকশন ভরপুর ছবিতে এমন একটা টানটান অ্যাকশন সিকোয়েন্স নেই যেটাতে দর্শকের অ্যাড্রিনালিন সাড়া দেবে। নতুন অ্যাকশন ভাবনার কথা ছেড়েই দিলাম। যেমন ধারহীন এই ছবির অ্যাকশন ততোধিক ধারহীন এ 'ছবির সংলাপ।

ভালো পরিচালকের হাতে নিম্ন বা মধ্যমেধার অভিনেতাও ভালো অভিনয় করে দেয়। সত্যজিৎ রায় অনেক সাধারণ অভিনেতাদের দিয়ে ভালো অভিনয় করিয়ে নিতেন। আবার অতি ভালো অভিনেতারও করুণ অবস্থা হয় ভালো চিত্রনাট্য এবং পরিচালক না পেলে। তো এরকম একটা ছবিতে সিদ্ধার্থর অবস্থা অনুমান করে নিন। সুন্দর চেহারা আর পেশিবহুল উল্কিআঁকা শরীর ছাড়া আর কিছু দিতে পারেনি সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থর অভিব্যক্তি, রাগ কোনো কিছুই দর্শক অবধি এসে পৌঁছোয় না। প্রতিটি চরিত্রেরই একই অবস্থা। চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যে কোথাও কোন রসায়নই তৈরি হয়নি। ছবির প্রতিটি চরিত্র সিন্থেটিক। একটিও রক্তমাংসের চরিত্র হয়ে উঠতে পারেনি। সুনীল শেঠী থেকে দর্শন কুমার প্রত্যেকের অবস্থা করুণ। দর্শন কুমারকে কোনো কম্পিউটার গেমের চরিত্রর চেয়ে বেশি কিছু লাগেনি। জ্যাকলিনকে নিয়ে আর শব্দ খরচ করছিনে, আমার পাঠকের উপর ভরসা আছে, তারা ঠিক বুঝে নেবেন।

রাজ এবং ডিকে কী তাহলে নিম্নমানের পরিচালক? এদের ঝুলিতে আছে ৯৯, শোর ইন দ্য সিটি অথবা গো গোয়া গন এর মত ছবি। বিশেষ করে বলতে হয় ২০১১ তে 'শোর ইন দ্য সিটি'র কথা। একেবারে অন্য স্বর শোনা গেছিল সেই ছবিতে। বড় শহরের প্রান্তিকদের কথা উঠে এসেছিল একেবারে নতুন ভাবে। আর এই ২০১৭ তে 'আ জেন্টলম্যান' ছবিতে রাজ এবং ডিকে হয়তো ভেবেছিলেন সুন্দর নায়ক-নায়িকা, ওয়ালপেপারের মত ঝাঁ চকচকে সুন্দর জায়গা দেখিয়ে দর্শককে টেনে রাখবেন। মাঝে মাঝে ছেলে ভুলোনোর মত কিছু ল্যাদ খাওয়া অ্যাকশন দৃশ্য আর বোকা বোকা নাচগান দিয়ে দর্শক ভুলিয়ে রাখবেন। পরিচালকদ্বয়ের মনে রাখা উচিত ছিল সারবত্তা ছাড়া সৌন্দর্যও ভীষণ পানসে। সবচেয়ে বড় ভুল দর্শককে এতোটা নির্বোধ ভাবা। জেসন বর্ণ সিরিজ বা মিশন ইম্পসিবল সিরিজ পরবর্তী দর্শককে এরকম প্রাণহীন অ্যাকশন সিকোয়েন্স দিয়ে ভুলিয়ে রাখা যাবেনা কত্তা! কি বলছেন, দক্ষিণী ছবির কথা? ওটার ফ্লেভার ভীষণ ভাবে লোকাল, প্যাকেজটাও দেশি। গ্লোবাল করার চেষ্টা ওরা করেই না, এটা গুলিয়ে ফেললে হবে না। রাজ এবং ডিকে এরপরের ছবি করার আগে আপনাদের সিরিয়াস রিথিঙ্কিং দরকার। (#AGentleman)

আমার পেছনে বসেছিল একদল মেয়ে, ভীষণরকম সিদ্ধার্থভক্ত সেটা জানান দিচ্ছিল। সিদ্ধার্থ এন্ট্রি নিতেই সিটি আর উল্লাস ছিল কান ফাটানো। যখন সিদ্ধার্থ জামা খুলল তাদের একটাই অভিব্যক্তি- উফফ উফফ! তো এহেন সিদ্ধার্থ ভক্তদেরও দেখলাম ছবি শেষের আধা ঘণ্টা আগেই হল থেকে বেরিয়ে যেতে। এই তো অবস্থা! এরপরও যদি আপনি হলে গিয়ে ছবিটা দেখতে যান আর সিটে বসে একবার এপাশ, একবার ওপাশ করতে থাকেন তার দায় আপনার।

আমার রেটিং পাঁচ এ এক।

1
রাতে 'কুপিয়ে' খুন হলেন দু’জন, মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী

Popular News

579

2
কফিনবন্দি দেহ ফিরল মালদায়, স্যালুট জানিয়ে শেষ শ্রদ্ধা পুলিশের

Popular News

885

3
গঙ্গায় মিশে যেতে পারে ফুলহর, বাজছে বিপদ ঘণ্টা

Popular News

840

4
আত্মীয়ের বাড়িতে এসে গ্রেফতার বাংলাদেশি

Popular News

1321

5
বাংলাদেশে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিলেন মহদীপুরের এক্সপোর্টার্সরা

Popular News

897

পপুলার

বিজ্ঞাপন

টাটকা আপডেট
 

aamadermalda.in

আমাদের মালদা

সাবস্ক্রিপশন

যোগাযোগ

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS