সীমান্তে যুদ্ধজিগির
f.jpg

সীমান্তে যুদ্ধজিগির


অযথা উত্তেজনার পারদ ঊধর্বমুখী করা অর্থহীন৷ চৈনিক তর্জন-গর্জনের মূল্য আধুনিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণে সামান্যই৷ এক্ষেত্রে বিশেষ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন নয়াদিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব৷ ইত্যবসরে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ইঙ্গিতবাহী বার্তায় জানিয়েছেন, ভারতে চিনের বিনিয়োগ বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তাঁর অনুচ্চারিত বার্তাটি হল, চিনা কোম্পানিগুলি এই বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় কিনা, তা চিনা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে৷ হুংকারে বিন্দুমাত্র ত্রস্ত না হয়ে ভুটানের ভূখণ্ড ডোকলাম থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ না নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক নেত্রীবৃন্দ৷ ২০১২ সালের ত্রিপাক্ষিক একটি চুক্তি অনুযায়ী ভারত-চিন-ভুটান এই তিন দেশের সীমান্তে অবস্থিত এই অঞ্চলে উক্ত তিন দেশের কোনো একটি দেশ কোনো উদ্যোগ নিলে অপর দুই দেশের সম্মতি অবশ্যই গ্রহণীয়৷ ভারত-ভুটানের অসম্মতিতে এক্ষেত্রে চিন যেভাবে ডোকলামে রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, তা চুক্তির উল্লঙ্ঘন৷


কূটনীতিকদের মতে, ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত করছে যে, দু’দেশের পক্ষ থেকেই উত্তেজনা কমানোর জন্য সক্রিয়তা শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তা না হলে বেজিংয়ের ধুলো ঝেরে অতীতের দস্তাবেজ বের করে ভারতের কাছে কিছু প্রমাণ করার দায় থাকত না৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে যাবেন৷ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের চিন সফরের সময়েই উত্তেজনা কমানোর চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা চাণক্যের দেশের কূটনীতিকদের৷ চিন এক বিবৃতিতে ১৮৯০ সালের চিনা-ব্রিটিশ চুক্তির উল্লেখ করেছে৷ সেই চুক্তি অনুযায়ী ডোকলাম চিনের অধিকারে এসেছিল৷ ভারত অবশ্য আগেই এই দাবির বিরোধিতা করেছে৷ ডোকলামে সড়ক নির্মাণের আগে সীমান্ত সৌজন্যের খাতিরে ভারতকে আগাম জানানো হয়েছিল বলেও দাবি চিনের৷ ভারত এনিয়ে রা কাড়েনি৷

‘ইনটারন্যাশনাল হ্যাপি ইনডেক্স’ জানাচ্ছে, ভুটান হল এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে সুখী দেশ৷ সেদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা বড্ড ভালো মানুষ৷ সুখ-সূচক অনুসারে, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সুখী মানুষ হলেন নরওয়ের মানুষজন৷ সেই তালিকায় আছে ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, লুক্সেমবার্গ৷ সুখী দেশের তালিকায় ভুটান আট নম্বরে৷ সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশ ভুটানের বিদেশনীতি, অর্থনীতি,সামরিক পদক্ষেপ সবই ঠিক করে দেয় তার অলিখিত অভিভাবক ভারত সরকার৷ সঈদ নাকভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুটানের রাজা বলেছেন, ‘ভারতীয় কিছু অফিসার ভাবছেন আমরা বোধহয় চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে আমাদের সাবেক বন্ধু ভারতকে ভুলতে চাইছি৷ এটা সত্যি নয়৷ আমরা চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক করতে চাই না৷ কিন্তু চিনের সঙ্গে কোনো সরকারি বোঝাপড়াই থাকবে না, এ কেমন কথা?’ আজ এত বছর পর যখন গোটা পৃথিবী এক আধুনিক মানসিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে এগোতে চাইছে তখন ভুটানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার প্রচেষ্টাই মূর্খামি৷ নেহরু যে পরিসর দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন, আজ সেই পরিসর প্রতিবেশীকে না দিলে বিপদ যে আমাদেরই বাড়বে৷ ১৯৫৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নেহরু ইন্দিরাকে সঙ্গে নিয়ে চুম্বি উপত্যকায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা বন্ধু, কিন্তু ভুটানের সার্বভৌমত্বে আমরা বিশ্বাস করি৷ তার নিজের বিদেশ নীতি সে নিজেই স্থির করুক৷’ পেশী প্রদর্শন না করে আপাতত শান্তি পথেই সমাধান খোঁজা হবে উচিত কাজ৷

#AamaderDiary

হেডলাইন

প্রতিবেদন

ডিজিট্যাল যুগে বাধ সাধে নি লন্ঠন, যমজ বোনের সাফল্য উচ্চমাধ্যমিকে

বিদ‍্যুৎ পরিষেবা পেলেও আর্থিক সঙ্কট থাকায় বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়েই তিন বছর ধরে লন্ঠনের আলোতেই পড়াশুনা চালিয়েছেন...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.