বিজ্ঞাপন

দুষ্কৃতীদের বিষ নজরে শহর

উৎসবের মরশুম আসতে আর দেরি নেই৷ নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তারাও৷ কারণ, এই মরশুমেই তো সারা বছরের সংস্থান হয়! উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই পুলিশ প্রশাসন সমাজবিরোধীদের রুখতে বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেয়৷ অবশ্য সেই উদ্যোগ নিতে এখনও বেশ খানিকটা দেরি রয়েছে৷ কিন্তু তার আগেই তৎপর হয়ে উঠেছে দুষ্কৃতীরা৷ তার প্রমাণও মিলেছে৷ গত ৭ দিনেই শহর সংলগ্ন এলাকা থেকে ধরা পড়েছে ৯ জন সশস্ত্র ডাকাত৷ যদিও পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে গিয়েছে আরও বেশ কয়েকজন৷ শহর সংলগ্ন যদুপুর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবারই চোরাই গাড়ি সহ একজনকে গ্রেফতার করেন ইংরেজবাজার থানার আইসি৷ শহরের বুক থেকে প্রায় প্রতিদিনই খোওয়া যাচ্ছে মোটরবাইক৷ সব মিলিয়ে স্পষ্ট, সমাজবিরোধীরা এখন থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছে৷



গত ৭ দিনেই শহর থেকে ধৃত ৯ সশস্ত্র ডাকাত


পুলিশের একাংশের ধারণা, মালদা শহরের ভৌগোলিক অবস্থানটাই সমাজবিরোধীদের তৎপরতার অন্যতম একটি কারণ৷ শহর থেকে মাত্র ৮-১০ কিলোমিটার দূরেই বাংলাদেশ সীমান্ত৷ মহানন্দা নদীপথেও বাংলাদেশ পৌঁছোতে বেশি সময় লাগবে না৷ কোনোরকমে শহরের গণ্ডি পেরোতে পারলেই উন্মুক্ত বিহার ও ঝাড়খণ্ড৷ গঙ্গার চর ধরে এগোলে ওই দুই রাজ্যে পৌঁছোনো মাত্র কয়েকঘণ্টার কসরত৷ আর একবার সমাজবিরোধীরা সেসব জায়গায় চলে গেলে এই জেলার পুলিশের তেমন কিছু করারও থাকে না৷ ভিনরাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপরাধীকে ধরা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ৷ তার মধ্যেই তারা পগারপার হয়ে যায়৷ তবে শুধু যে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরাই উৎসব মরশুমে শহরে ঘাঁটি গাড়ে তা নয়, স্থানীয় দুষ্কৃতীরাও সংখ্যায় কম নয়৷

পুলিশের এমন অনুমান যে নিছকই অবাস্তব নয় তার প্রমাণ মেলে প্রায় প্রতি বছরই৷ জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পুজো ও দিওয়ালির বাজারে ভিড় বাড়ে ভিনরাজ্যের চোর, ছিনতাইবাজ, এমনকি ডাকাতদলেরও৷ এদের সঙ্গে অথবা আলাদাভাবে ময়দানে নেমে পড়ে স্থানীয় সমাজবিরোধীরাও৷ প্রতি বছর এভাবে বছরের রসদ জোগাড় করার কাজে যুক্ত এমনই একজনের কাছে জানা গিয়েছে, তাদের লক্ষ্য থাকে পুজোর বাজার শুরু হওয়ার অন্তত দু’আড়াই মাস আগেই কাজে নেমে পড়া৷ তার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি৷ দলে নবাগতদের কাজ শেখাতেই চলে যায় বেশ কিছুদিন৷ একেকটি দলে কম করে ১০-১২ জন থাকে৷ দু’জন অথবা তিনজনের দলে ভাগ হয়ে যায় সবাই৷ কোনো দোকান অথবা মলে একটি দল ঢোকে৷ বাইরে ১০০-২০০ মিটার দূরত্বে থাকে অন্যান্য দলগুলি৷ দোকান অথবা মল থেকে সাফাই করা মালকড়ি বার বার হাত বদল হতে থাকে৷ তাতে কেউ একজন ধরা পড়ে গেলেও চুরি যাওয়া মাল উদ্ধার করা দুষ্কর হয়ে পড়ে৷ ফলে আদালতে পুলিশ যথাযথ প্রমাণ পেশ করতে পারে না৷ ধরা পড়ে যাওয়া ছিনতাইবাজদেরও তেমন সাজা হয় না৷ তবে ডাকাতদলের কাজের চরিত্র ভিন্ন৷ সাধারণত তারা শহরের সীমানা এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলিতে নজর দেয়৷ তাতে কাজ হাসিল করে পালানো অনেকটাই সুবিধাজনক৷

জেলা পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, পুজো মরশুমে প্রতি বছরই শহরের বুকে সাদা পোশাকের পুলিশ যথেষ্ট পরিমাণে নামানো হয়৷ পুলিশকর্মীদের বড়ো বড়ো দোকান ও শপিং মলেও নিয়োগ করা হয়৷ পুলিশ বিভাগে সিভিক ভলান্টিয়ার নিযুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যাটি আরও বেড়েছে৷ তার সুফলও মেলে৷ প্রতি বছরই একাধিক গ্যাং পুলিশের হাতে ধরা পড়ে৷ তবে তা সত্ত্বেও যে কিছু ঘটনা ঘটে তা অস্বীকার করা যাবে না৷ এবারও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে৷ এর বাইরেও আর কিছু করা যায় কিনা তা নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷

এবারের উৎসব মরশুমে চোর-পুলিশ খেলা কবে থেকে শুরু হয়, অপেক্ষায় রয়েছে শহরবাসী৷

#Malda

বিজ্ঞাপন

Malda Guinea House.jpg

পপুলার

1

সুজাপুরে বিস্ফোরণস্থলে এলেন ফিরহাদ হাকিম, আসছে ফরেনসিক দল

Popular News

697

সুজাপুরে বিস্ফোরণস্থলে এলেন ফিরহাদ হাকিম, আসছে ফরেনসিক দল
2

তীব্র বিস্ফোরণ সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায়

Popular News

1291

তীব্র বিস্ফোরণ সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায়
3

দোকানে হানা, মাদক বিক্রেতাদের কঠোর বার্তা পুলিশের

Popular News

542

দোকানে হানা, মাদক বিক্রেতাদের কঠোর বার্তা পুলিশের
4

সংক্রমণ রুখতে এবার বন্ধ গোবরজনায় কালীপুজোর মেলা

Popular News

749

সংক্রমণ রুখতে এবার বন্ধ গোবরজনায় কালীপুজোর মেলা
5

চাকরির টোপে প্রতারণা ইংরেজবাজারে, গ্রেফতার চক্রের মূল পান্ডা

Popular News

989

চাকরির টোপে প্রতারণা ইংরেজবাজারে, গ্রেফতার চক্রের মূল পান্ডা
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট
কমেন্ট করুন
 

aamadermalda.in

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS