২০০ মার্কস


মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) কত মার্কস দিতেন নিজেকে মার্কসবাদী হিসেবে? স্রেফ শূন্য! তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আর যাই হই কখনই মার্কসবাদী নই’। একথা আমাদের জানিয়েছেন স্বয়ং এঙ্গেলস (১৮২০-১৮৯৫) অতএব এতে বিতর্কের অবকাশ নেই। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড থেকে জেএনইউ, যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি হয়ে মফসসলের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারালো বস্তুবাদী পণ্ডিতদের মধ্যে মানুষটাকে নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি, মার্কস কতটা খরচার বিষয় আর কতটা চর্চার, কোন প্রিজমে দেখব মার্কসিজমকে সেসব চিন্তা অনবরত দোল খেয়ে চলেছে তাঁদের মগজের মগডালে। অতটা উচ্চতার নাগাল পেতে গিয়ে গাল খাওয়ার কোনো অভিপ্রায় আমার নেই। মার্কসবাদ নিয়ে নিদেনপক্ষে দশ মার্কসেরও কোনো উত্তর আমি লিখিনি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারণ বিজ্ঞানে মার্কস নেই যদিও শুনেছি মার্কসবাদ নাকি বিজ্ঞান! তবু এবছর ২০০ মার্কস, ১০০ বিপ্লব এবং ৫০ নকশালবাড়ি তার মধ্যে প্রথম এবং শেষটা এই মাসেই, সত্যি এক অদ্ভুত সমাপতন! ঘটনাগুলো দশ বছর আগে হলেও বাংলায় এই মে মাসে সব গাছকেই মনে হত কৃষ্ণচূড়া কিন্তু আপাতত রাজ্যের লালিমায় ভাঁটার টান... সত্যি কমরেড রেড খুবই কম। কয়েক দশক আগেও বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডে, বত্রিশটা দেশে সরকার চলেছে তাঁর নামে, এখনও একা বা জোটসঙ্গী হিসেবে উনিশটা দেশে তাঁর মতবাদের দল ক্ষমতায়। এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব চেয়ে বড়ো রাজনৈতিক দল (কমিউনিস্ট পার্টি অফ্‌ চায়না) তাও তাঁর মতাদর্শ অবলম্বনে, তাঁর নামে রাজনৈতিক দল আছে একশোরও বেশি দেশে অথচ কার্ল মার্কস নিজে কিন্তু জীবদ্দশায় একেবারেই জনপ্রিয় ছিলেন না। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের লাইব্রেরির রিডিং রুমে পড়ে আর লিখেই কেটে গেছে তাঁর মোট চৌষট্টি বছরের জীবনকালের প্রায় চল্লিশ বছর। যার কথার উপর দাঁড়িয়ে আফগানিস্তান থেকে অ্যাঙ্গোলায়, উজবেকিস্তান থেকে উগান্ডায় রাস্তায় নেমেছিল লক্ষ মানুষ জীবদ্দশায়। তাঁর ভাষণ কিন্তু ছিল একঘেয়েমিতে ভরা। তা পাণ্ডিত্যের সম্ভ্রম আদায় করলেও কোনোভাবেই কোন উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারেনি জনমানসে। ১৮৭০ সালের আগে তাঁর লেখাগুলোও তেমনভাবে পৌঁছায়নি জনগণের কাছে। জনগণের সাথে মেলামেশাতেও তাঁর খুব একটা উৎসাহ ছিল না। মার্কসের জীবনে বৈপরীত্য আরও আছে, যে শ্রেণির উৎখাতের জন্য সারা জীবন ধরে এতো কষ্ট, এতো কষ্ট পরিশ্রম, এতো পড়াশোনা, এতো লেখালেখি সেই শ্রেণির সাহায্যেই কিন্তু তাঁর টিকে থাকা। কারণ এঙ্গেলসের ম্যাঞ্চেস্টারের সুতোর কারখানার লভ্যাংশেই চলতো তাঁর সংসার খরচ। লেবার এবং ক্যাপিটাল এই দুইয়ের দ্বন্দ্ব মার্কসের জীবনে চিরকাল। সারাজীবন বিপুল পরিশ্রম কিন্তু উপার্জন প্রায় কিছুই না। প্রথম দিকে বাবা পরে এঙ্গেলস, এদের অর্থ সাহায্যেই টিকে থেকেছে তাঁর সংসার। মার্কস থেকে তাঁর মার্কসবাদটাকে বাদ দিলে শুধু ব্যক্তি মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন কার্ল মার্কস? বিরুদ্ধ মতালম্বীদের যুক্তির অসাড়তা প্রমাণ করতে অসম্ভব পরিশ্রমী, মেধাবী, কোনোরকম আবেগবর্জিত একটা কঠিন মনের অধিকারী। কতটা পরিশ্রমী ছিলেন মার্কস তার প্রমাণ পাওয়া যায় এঙ্গেলসের স্মৃতিচারণায়, সমসাময়িক নৈরাজ্যবাদী তাত্ত্বিক প্রুধোঁর (পিয়ের জোসেফ প্রুধোঁ ১৮০৯-১৮৬৫) ‘ফিলসফি অফ্‌ পভার্টি’ এই লেখার প্রতিবাদে এঙ্গেলস লিখেছিলেন ষোলো পাতার চিঠি আর মার্কস লিখেছিলেন তিনশো পাতার আস্ত একখানা বই ‘পভার্টি অফ্‌ ফিলসফি’। মার্কসের অতি বড়ো গুণগ্রাহীও তাঁদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় অস্বীকার করতে পারেননি তাঁর রুঢ় ও কর্কশ ব্যবহারের। মার্কস তাঁর সান্নিধ্যে আসা বেশিরভাগ মানুষকেই মনে করতেন হয় মূর্খ নয় ভণ্ড কিন্তু খুব অন্তরঙ্গ ছোট্ট বৃত্তে, বাবা হিসেবে, স্বামী হিসেবে হাসিখুশি, মিশুকে, নম্র এবং শান্ত। এঙ্গেলসের সঙ্গে চল্লিশ বছরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুতা, পরস্পরের উপর চরম নির্ভরশীলতা। অন্য অনেকের কাছে তাঁর ব্যবহারে মাধুর্য অল্পই ছিল উলটে বহুজনের প্রতি তিনি ঘৃণায় অন্ধ ছিলেন। তবু তাঁর শত্রুরাও তাঁর চরিত্রের শক্তি আর আক্রোশ দেখে আশ্চর্য হতেন। মার্কসের দৃষ্টির ব্যাপ্তি আর নির্ভীকতা অবাক করত তাঁদের। এসব কথা লিখেছেন গত শতকের বিখ্যাত মার্কসবাদী ইতিহাসবিদ অক্সফোর্ডের পণ্ডিত এবং মার্কসের অন্যতম সেরা জীবনীকার ইসাইয়া বার্লিন (১৯০৯-১৯৯৭)। এই বেলা বার্লিনের লেখা তিনশোর চেয়ে দু’পৃষ্ঠা কম চমৎকার জীবনীটা পরে ফেলা যেতে পারে সেখানে শেষ কথাটা প্রথমেই বার্লিন লিখে ফেলেছেন ‘সাধারণ মানুষের জীবনে উনিশ শতকের যে চিন্তাবিদের প্রভাব সবচেয়ে গভীর এবং প্রত্যক্ষ তাঁর নাম কার্ল মার্কস’।

সুত্রঃ কার্ল মার্কস – ইয়াসিয়া বার্লিন, পঞ্চম সংস্করণ ২০১৩

#DebrajRoychaudhuri #PrintEdition

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.